রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাদির ওপর হামলাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ আখ্যা দিলেন সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো সংশয় ও দুশ্চিন্তা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা অবনতি হলো কোথায়? মাঝে মাঝে দুই-একটা খুন খারাবি হয়। এই যে হাদির ঘটনা হয়েছে, আমরা এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করি।” সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) গুলশানে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি অতীতের উদাহরণ স্মরণ করিয়ে বলেন, “এ ধরনের ঘটনা তো সবসময় ছিল। আগে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টারের সঙ্গেও এরকম হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা হয় বাংলাদেশে, এটা নতুন কিছু নয়।”

তিনি আরও বলেন, “ঐতিহাসিক নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে কিছু আশঙ্কা থাকতে পারে, তবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই—নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো সংশয় নেই। আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। ইনশাআল্লাহ, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা হবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, সবার সহযোগিতা নিয়ে। আপনাদের মাথায় যত ধরনের দুশ্চিন্তাই আসুক না কেন, আমি অনুরোধ করব সেই দুশ্চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন। আমরা সবাই মিলে প্রস্তুতি নেই যাতে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারি।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা নির্বাচনে বাধার প্রশ্নে সিইসি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরনের কোনো অবনতি হয়নি। মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটে, যেমন সম্প্রতি হাদির ঘটনা। কিন্তু এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা, যা আগেও ছিল। বাংলাদেশে এমন ঘটনা নতুন নয়। বরং, গত ৫ আগস্ট বা ২৪-এর পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে, তখন থানাগুলো কার্যকর ছিল না, পুলিশ স্টেশনও নড়ছিল না—সেই সময়ের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, এখন আমরা শান্তিতে চলাফেরা করতে পারছি, রাস্তায় চলাচল করতে পারছি, শান্তিতে ঘুমাতে পারছি।”

তিনি জানান, “গতকাল আমাদের শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আমাদের বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তারা নিশ্চিত করেছে যে নির্বাচনের সময় পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনে তারা সক্ষম। মিডিয়াতে হয়ত দেখেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের প্রস্তুতির কথা আমাদের জানিয়েছে।”

সিইসি আশ্বাস দেন, “নির্বাচন সঠিক সময়ে, সঠিকভাবে, একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। জাতিকে আমরা যে ওয়াদা দিয়েছি, নির্বাচন কমিশন ইনশাআল্লাহ তা পরিপালনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেব।”

নাসির উদ্দিন বলেন, “আমরা পিছনে ফিরে যাইনি। এখন তরুণদের ওপর ভর করে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। আশা করি, পরবর্তী নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য। দেশের বিশেষ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ দেখে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আমি আরও উৎসাহিত বোধ করি।”

তিনি উল্লেখ করেন, “এই নির্বাচনটি একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। প্রথমবারের মতো আমরা ডাকযোগে (পোস্টাল ব্যালট) প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটের আওতায় এনেছি। গত ৫৪ বছরে যা হয়নি, এবার তা করছি। প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ যারা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জড়িত, তারা এবার ভোট দিতে পারবে। কারাবন্দিদের জন্য, প্রবাসীদের জন্য এবং যারা নিজ নির্বাচনি এলাকার বাইরে আছেন, তাদের জন্যও ভোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

সিইসি আরও বলেন, “সর্বোপরি, এবার একটি গণভোটও একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এই সমস্ত দিক থেকে এটি নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক। আমরা যে সাহস করে এই পথে নেমেছি, আমাদের এই সাহসী পদক্ষেপের সঙ্গে আপনাদের সবার, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের, অংশগ্রহণ থাকলে ইনশাআল্লাহ সফল হব। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন একা সফল হতে পারে না। সবাইকে নিয়েই আমরা এটি করব।”

শেয়ার করুন