মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত ফেরাতে নতুন গভর্নরের তাগিদ

পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত ফেরাতে নতুন গভর্নরের তাগিদ

দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কার্যক্রম আরও জোরদার ও ফলপ্রসূ করতে নবনিযুক্ত গভর্নর ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’-এর কনসালটেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং পুরো প্রক্রিয়াকে ‘ফাস্ট ট্র্যাকে’ নিয়ে আসার নির্দেশনা দেন তিনি।

এর আগে রোববার গভর্নর জানান, পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণসহ ব্যাংক খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নীতি সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু করা এবং সিএমএসএমই খাতে অর্থায়ন বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব দিকনির্দেশনা দেন গভর্নর। এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন এর নেতৃত্বে ১৯টি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ওই বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে গভর্নরের বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এর একীভূতকরণ নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তাও অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বার্তা দিয়েছেন। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নীতি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া নতুন শাখা খোলার সময় ভাড়া নির্ধারণে অঞ্চলভিত্তিক একটি মানদণ্ড নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন