ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত আচার-অনুষ্ঠান ও ইবাদতের ওপর গুরুত্ব দেয় না, বরং রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার দিকেও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। কোরআন ও হাদিসে পাওয়া যায়, যে রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হতে হবে ন্যায়, শান্তি, জনগণের কল্যাণ এবং সামাজিক সমতা নিশ্চিত করা।
ইসলামী শাসনব্যবস্থায় শাসক ও প্রশাসকদের দায়িত্ব হলো জনগণের অধিকার রক্ষা করা, দমন, অবিচার বা শোষণ থেকে রক্ষা করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা। কোরআনে উল্লেখ আছে, শাসকগণ ন্যায়পরায়ণ হতে হবে, তাদের কর্মকাণ্ডে মানুষের কল্যাণ অগ্রাধিকার পাবে। হাদিসে বলা হয়েছে, একজন শাসক যদি জনগণের মঙ্গল চায় এবং ন্যায়পরায়ণভাবে কাজ করে, আল্লাহ তাগালার বরকত তার রাষ্ট্রে বজায় থাকবে।
ইসলামে সরকার ব্যবস্থা শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদানের বিষয় নৃয়, বরং সমাজের দারিদ্র্য দূর করা, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার রক্ষা, এবং অর্থনৈতিক সমতা নিশ্চিত করা-তেও গুরুত্ব দেয়। তাই ইসলামী রাষ্ট্রে শাসকগণ শুধুমাত্র নিজের ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে শাসক ও রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কটি জনগণের প্রতি দায়িত্বশীলতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। শাসকগণ সামাজিক ন্যায়, দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করবেন। রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে এই ভারসাম্য এবং ন্যায়পরায়ণতা হলো ইসলামী দর্শনের মূল ভিত্তি।
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রমাণ করে যে, ধর্ম শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নৈতিকতার বিষয় নয়, বরং এটি সুশাসন, ন্যায়বিচার ও সামাজিক কল্যাণের জন্য একটি দিশারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের এই দৃষ্টিভঙ্গি আজও বিশ্বজুড়ে প্রাসঙ্গিক এবং শিক্ষণীয় হিসেবে বিবেচিত।





