রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঘুম মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতটা উপকারী?

ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন। কাজের চাপ, পড়াশোনা, মোবাইল ফোন কিংবা দুশ্চিন্তার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুম এখন যেন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অথচ সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য ঘুমের গুরুত্ব অপরিসীম। শারীরিক সুস্থতা থেকে শুরু করে মানসিক প্রশান্তি—সবকিছুর সঙ্গেই ঘুম ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম মানুষের শরীরকে নতুন করে শক্তি জোগায়। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে, কোষ পুনর্গঠন হয় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। যারা প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমান, তাদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ঘুমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ঘুম স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা উন্নত করে। অপর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে আচরণগত সমস্যাও দেখা দেয়।

শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ঘুম আরও বেশি প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়। অন্যদিকে কর্মজীবীদের জন্য ভালো ঘুম কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং কাজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণেও ঘুমের প্রভাব রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কম ঘুমান তাদের মধ্যে স্থূলতার ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ অপর্যাপ্ত ঘুম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা, ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা এবং ঘুমের পরিবেশ শান্ত রাখা—এসবই ভালো ঘুমে সহায়ক।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের মৌলিক চাহিদা। সুস্থ শরীর, স্থির মন এবং সুন্দর জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। তাই দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও ঘুমকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত—নিজের সুস্থতার জন্যই।

শেয়ার করুন