গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য এসি এখন অনেকের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তবে বাজারে অসংখ্য ব্র্যান্ড, মডেল ও ফিচারের ভিড়ে কম দামে মানসম্মত এসি বেছে নেওয়া সহজ নয়। একটু সচেতন হলেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব—যাতে আরামও মিলবে, আবার অপ্রয়োজনীয় খরচও এড়ানো যাবে।
এসি কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি, সেগুলো এক নজরে দেখে নেওয়া যাক—
১. ঘরের মাপ অনুযায়ী টন নির্বাচন
এসি কেনার আগে অবশ্যই ঘরের আয়তন হিসাব করতে হবে। ঘর ছোট হলে বেশি টনের এসি বিদ্যুৎ অপচয় বাড়ায়, আবার বড় ঘরে কম টনের এসি কার্যকর ঠান্ডা দিতে পারে না। সাধারণভাবে ১০০–১৫০ বর্গফুট ঘরের জন্য ১ টন এবং ১৫০–২৫০ বর্গফুট ঘরের জন্য ১.৫ টন এসি উপযুক্ত।
২. ইনভার্টার না নন-ইনভার্টার
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দিক থেকে ইনভার্টার এসি এখন এগিয়ে। দীর্ঘ সময় ব্যবহারে এটি কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং তাপমাত্রা স্থির রাখে। যদিও নন-ইনভার্টার এসির দাম তুলনামূলক কম, তবে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসে। নিয়মিত ব্যবহারকারীদের জন্য ইনভার্টার এসিই ভালো পছন্দ।
৩. এনার্জি স্টার রেটিং যাচাই
এসির গায়ে থাকা স্টার রেটিং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ৩ থেকে ৫ স্টার পর্যন্ত রেটিং পাওয়া যায়। স্টার যত বেশি, বিদ্যুৎ খরচ তত কম। প্রাথমিকভাবে দাম বেশি হলেও ৫-স্টার এসি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হতে পারে।
৪. বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব
শুধু কেনার দাম নয়, বছরে এসিটি কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করবে সেটিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। বেশিরভাগ এসির প্যাকেটে এ তথ্য দেওয়া থাকে, যা বিভিন্ন মডেলের মধ্যে তুলনা করতে সহায়তা করে।
৫. কম্প্রেসরের মান ও ওয়ারেন্টি
এসির মূল শক্তি হলো এর কম্প্রেসর। ভালো কম্প্রেসর মানে দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স। তাই কম্প্রেসরে কত বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হচ্ছে তা দেখে নেওয়া জরুরি। সাধারণত ৫–১০ বছরের ওয়ারেন্টি থাকলে সেটি ভালো মানের বলে ধরা হয়।
৬. ফিল্টার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফিচার
আধুনিক এসিতে ডাস্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বা অ্যান্টি-ভাইরাল ফিল্টার থাকে, যা বাতাস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। শিশু, বয়স্ক বা শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এসব ফিচার বিশেষ উপকারী।
৭. শব্দের মাত্রা
শোবার ঘরে ব্যবহারের জন্য কম শব্দের এসি বেশি আরামদায়ক। তাই এসির নয়েজ লেভেল বা ডেসিবেল মাত্রা দেখে নেওয়া ভালো।
৮. ব্র্যান্ড ও সার্ভিস সুবিধা
পরিচিত ব্র্যান্ডের এসি হলে সাধারণত সার্ভিস সাপোর্ট সহজে পাওয়া যায়। নিজ এলাকায় সার্ভিস সেন্টার আছে কি না, সেটিও কেনার আগে জেনে নেওয়া উচিত।
৯. ইনস্টলেশনসহ মোট খরচ
অনেক সময় ইনস্টলেশন চার্জ, কপার পাইপ বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগ হয়ে মোট ব্যয় বাড়ে। তাই এসি কেনার সময় সব মিলিয়ে মোট খরচ কত হবে, তা আগেই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
১০. বাজেট ও সঠিক সময় নির্বাচন
নিজের বাজেট অনুযায়ী বিভিন্ন শোরুম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দাম তুলনা করলে ভালো অফার পাওয়া যায়। গরম শুরু হওয়ার আগেই বা অফ-সিজনে এসি কিনলে তুলনামূলক কম দামে ভালো মডেল পাওয়া সম্ভব।





