দিনাজপুর সদরের একটি কোম্পানিতে ‘ভূত বা জিন আছে’—এমন আতঙ্কে কয়েকজন নারী শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় অন্তত ৯ জন নারী শ্রমিককে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কারখানায় নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। কয়েকদিন ধরেই ওই কারখানা এলাকায় ভূত বা জিনের অস্তিত্ব টের পাওয়ার কথা শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানিয়ে আসছিলেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিনাজপুর সদরের বড়ইল (বনকালি) গ্রামে অবস্থিত ওই কোম্পানিতে এ ঘটনা ঘটে।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শ্রমিকরা হলেন- রুনা খাতুন (২২), শিউলি (৪৫), রুবিনা খাতুন (৬২), গীতা রানী (৪০), নুপুর (১২), শারমিন (১৮), জান্নাতুল ফেরদৌস (২৫), রেশমা (৩৫) ও লাবনী আক্তার (১৯)। এদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসা নিয়ে পরে বাড়ি ফিরে গেছেন।
স্থানীয়রা জানান, দিনাজপুর সদরের বনকালি গ্রামে কয়েক বছর আগে এই বিদেশি কোম্পানিটি গড়ে ওঠে। এতে আশপাশের এলাকার নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা কাজ করেন। বুধবার সকালে হঠাৎ নারী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা ছোটাছুটি শুরু করেন এবং কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় অসুস্থ অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, কারখানায় গ্যাস লিকেজ কিংবা বয়লার বিস্ফোরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কারখানায় গিয়ে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত কাজ বা ওভারটাইমের কারণে শারীরিক দুর্বলতা ও মানসিক আতঙ্কে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।
কোম্পানির ম্যানেজার শাহবাজ হোসেন বলেন, কারখানায় ভূত আছে—এমন বিশ্বাস থেকে নারী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই আতঙ্কেই তারা অজ্ঞান হয়ে যান। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করা হয়।
দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আলিম জানান, হঠাৎ করে নারী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে ঘটনাস্থলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এটি মানসিক বা ভৌতিক আতঙ্কজনিত হতে পারে।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রবিউল ইসলাম জানান, রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা তীব্র আতঙ্কে ভুগছিলেন। আতঙ্কের কারণে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। বর্তমানে সবাই সুস্থ রয়েছেন।




