ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে সেখানে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোপেনহেগেন। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ডেনমার্ক সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী কমান্ডের একাধিক ইউনিটকে গ্রিনল্যান্ডে পাঠানোর প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ডেনমার্কের গণমাধ্যম ডিআর-এর খবরে বলা হয়েছে, এসব সেনা ইউনিটের প্রধান দায়িত্ব হবে গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল এনহেডস্লিস্টেন পার্টি।
দলটির একজন মুখপাত্র ডিআর-কে জানান, তারা আগেই সরকারকে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার মতে, এটি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি কোনো পরাশক্তি এই অঞ্চলে আগ্রাসনের চেষ্টা করে, তাহলে এই সামরিক প্রস্তুতি সেই শক্তির জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন প্রায় ২১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার। তবে এত বিশাল আয়তনের বিপরীতে এর জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ৫৬ হাজার। এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯০ শতাংশই ইনুইট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। ভৌগোলিকভাবে উত্তর আমেরিকার অংশ হলেও গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এখানকার বাসিন্দারা ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত।
আর্কটিক ও আটলান্টিক মহাসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড নামের সঙ্গে সবুজের ইঙ্গিত থাকলেও বাস্তবে দ্বীপটির বড় একটি অংশ বছরের অধিকাংশ সময় বরফে ঢাকা থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলের ভূগর্ভে জ্বালানি তেলসহ নানা মূল্যবান খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্ব শক্তিগুলোর আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের দখলে না এলে চীন বা রাশিয়া সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন।
ওই বক্তব্যে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ১৯৫১ সালের চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকলেও শুধু চুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। তার মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা জরুরি, অন্যথায় প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো সেই সুযোগ নিতে পারে।




