জহিরুল ইসলাম অসীম, নেত্রকোণা প্রতিনিধি :
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর এই এক বছরে নেত্রকোনা জেলায় মোট ২০৭টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব মৃত্যুর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ হিসেবে রয়েছে হত্যা, গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা, বিষপানে আত্মহত্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু।
সচেতন বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়েও বেশি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে মৃত্যু বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশি ঝামেলা কিংবা ময়নাতদন্তের আশঙ্কায় প্রশাসনকে না জানিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। আবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে দাফন হওয়ায় অনেক ঘটনাই সরকারি নথিভুক্তির বাইরে থেকে যায়।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ১৩টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৪টি, মার্চে ১৮টি, এপ্রিলে ২০টি, মে মাসে ২০টি, জুনে ১৮টি, জুলাইয়ে ২২টি, আগস্টে ২৫টি, সেপ্টেম্বরে ১৬টি, অক্টোবরে ১২টি, নভেম্বরে ১৭টি এবং ডিসেম্বরে ১২টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২০৭টি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলায় মাসে গড়ে প্রায় ১৭ জনের বেশি মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি সানাউল হক মাসুম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রথমেই প্রয়োজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক তৈরি করা। বিআরটিএ, জেলা পরিবহন মালিক সমিতি এবং মোটরযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সমন্বিত উদ্যোগে চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক, অদক্ষ ও মাদকাসক্ত চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ট্রাফিক বিভাগকে আরও আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক জিএম নাদির হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চালক, হেলপার ও পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতেও বিআরটিএ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।
পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়নে পুলিশ বিভাগ সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে চালক, হেলপার ও পথচারীদের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ, অভিযুক্ত চালকদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনাসহ হেলমেট বিতরণ ও বিভিন্ন উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।




