মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার ভৈনসদেহি উপজেলায় এক ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা স্কুলের ভবন ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আবদুল নাঈম নামের এক যুবক কয়েকদিন ধরেই তার গ্রামে পাঁচ হাজার বর্গফুট জমিতে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করছিলেন। স্কুলের জন্য ইতিমধ্যেই ২০ লাখ রুপি খরচ করে ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছিল।
ঘটনার কয়েক দিন আগে গ্রামে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বলা হয় নাঈম অনুমোদনবিহীন মাদরাসা পরিচালনা করছেন। তবে নাঈম এই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভবন তখনো নির্মাণাধীন ছিল এবং কোনো শিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়নি।
গ্রাম পঞ্চায়েত ১১ জানুয়ারি নাঈমকে নোটিশ পাঠায়, দাবি করে যে নির্মাণটি অনুমোদনবিহীন। নাঈম জানান, তিনি আগেই রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরে নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল চালুর অনুমতির জন্য ৩০ ডিসেম্বর আবেদন করেছিলেন এবং জমির সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ আবেদন গ্রহণ না করে পরে আসার নির্দেশ দেন।
গ্রামের মানুষের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মধ্যে ১২ জানুয়ারি পঞ্চায়েত শেষে নাঈমকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) প্রদান করে। গ্রামের সরপঞ্চ বলেন, গ্রামের কোনো ব্যক্তি মাদরাসা চালু করার অভিযোগ জানাননি, এবং অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর পরেও ১৩ জানুয়ারি, স্থানীয় প্রশাসন জেলা সদর দফতরে কালেক্টরের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসা গ্রামের প্রতিনিধিদের সামনে জেসিবি মেশিন নিয়ে এসে ভবনের অংশ ও সামনের শেড ভেঙে দেয়।
উচ্ছেদ অভিযানের তদারকি করেন ভৈনসদেহি সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট অজিত মারাভি। সঙ্গে ছিলেন পুলিশ ও রাজস্ব বিভাগের কর্মীরা। প্রশাসনের দাবি, নির্মাণটি অনুমোদনবিহীন এবং দখল হিসেবে ধরা হয়েছে, তাই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নাঈম বলেন, তিনি কখনোই মাদরাসা খোলার পরিকল্পনা করেননি। তিনি জানান, ‘আমি স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন করেছিলাম। পঞ্চায়েতের এনওসি না থাকায় ভাঙার হুমকি এসেছে, কিন্তু আমি কোনো ধরনের জরিমানা দিতে প্রস্তুত, শুধু ভবনটি ভাঙা না হোক। এখানে মাত্র তিনটি মুসলিম পরিবার রয়েছে; মাদরাসা চালালে কারা পড়বে?’
স্থানীয়রা নাঈমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। জয় আদিবাসী যুব শক্তির সদস্য সোনু পানসে বলেন, ভবনে কোনো ধর্মীয় কার্যক্রম হয়নি এবং শিশুদের শিক্ষার জন্য স্কুলটি গ্রামের সমমতিতে গড়ে তোলা হচ্ছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন, কিছু মানুষ মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপকে উসকে দিয়েছে।
তবে জেলা প্রশাসন তাদের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জেলা কালেক্টর নরেন্দ্র সূর্যবংশী বলেন, ভবনটি অনুমোদনবিহীন ছিল, তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।




