প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) একটি মজবুত, লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যকর থাকা উচিত। তিনি বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিএসসি বাস্তবায়িত ৬টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের জন্য সরকারকে হস্তান্তরিত চেকের অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে চেক হস্তান্তর করেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন ও বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি যেভাবে বিএসসি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যকর হয়েছে, তা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এমনভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে যাতে প্রতিষ্ঠান নিজের আয় থেকেই শক্তিশালী হয় এবং বহরে আরও নতুন জাহাজ যুক্ত হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বহরে নতুন জাহাজ যুক্ত হলে নাবিকদের মধ্যে উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মেরিন একাডেমির প্রশিক্ষকদের যথাযথ সম্মানি প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বমানের নাবিক তৈরি করার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, বিএসসির জন্য চায়না এক্সিম ব্যাংক ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে ৬টি নতুন জাহাজ ক্রয়ের জন্য ২০১৬ সালে একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ঋণের আসল পরিমাণ ১,৫৫৭ কোটি ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৫ টাকা। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সরকারের পাওনা বাবদ মোট ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহৎ প্রকল্পের আওতায় ৬টি জাহাজ ক্রয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩টি নতুন প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার এবং ৩টি নতুন বাল্ক ক্যারিয়ার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উক্ত জাহাজগুলো বিএসসির বহরে যুক্ত হয়, এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে।
বিএসসি ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার আয় অর্জন করে সর্বোচ্চ মুনাফা ৩০৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা করেছে। প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বহরে নতুন জাহাজ যুক্ত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
এছাড়াও বিএসসি সম্প্রতি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহ করেছে, যার প্রথম জাহাজ “বাংলার প্রগতি” ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় জাহাজ “বাংলার নবযাত্রা” আগামী ৩০ জানুয়ারি ডেলিভারি পাবে।
সরকারি অর্থায়নে আরও ২টি এমআর প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার এবং নিজস্ব অর্থায়নে একটি আল্ট্রাম্যাক্স বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন। তাছাড়া চীন থেকে আরও ৪টি বড় জাহাজ সংগ্রহসহ বহরে নতুন জাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।





