শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে, সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রথমে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জিয়াউলের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। তবে ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের আদালতে পড়া হয়। অভিযোগ শুনে ট্রাইব্যুনাল জিজ্ঞেস করেন, জিয়াউল নিজে কি দোষ স্বীকার করবেন কি না। জিয়াউল দাঁড়িয়ে “নট গিল্টি” বলে জবাব দেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দেন।
বিচারিক কার্যক্রমে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী ও অন্যান্যরা। আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন নাহার।
এদিন সকালে জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি কারাগারে ছিলেন। এর আগে গত ৮ জানুয়ারি তার আইনজীবীরা তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করেন। তারা দাবি করেন, রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য-উপাত্তে জিয়াউলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এজন্য তিনি অব্যাহতি প্রার্থনা করেছিলেন।
মামলায় মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমটি ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা সংক্রান্ত। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা করার তথ্য রয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে একই সময় বরগুনার বলেশ্বর নদী এবং বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকায় বনদস্যু দমন অভিযানকে আড়াল করে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের দায়ে জিয়াউলকে গত ২৩ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ ১৭ ডিসেম্বর আমলে নেওয়া হয়। একই দিনে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চার্জ দাখিল করা হয়।





