জুম্মান হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি :
যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। এই হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে শাহিন কাজী (২৫) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার হওয়া শাহিন কাজী আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে শাহিন কাজীকে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলামের আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। বিচারক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার শাহিন কাজী যশোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁচড়া রায়পাড়া (তুলোতলা মোড়) এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে। তিনি যশোর সদর ফাঁড়ির সামনে লোন অফিস পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সেখান থেকেই সোমবার বিকেলে তাকে আটক করা হয়।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নিহতের জামাতা বাসেদ আলী পরশ এবং তার সহযোগী আসাবুল ইসলাম সাগর রিমান্ডে থাকাকালীন শাহিন কাজীর নাম উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়া গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া মূল শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুকও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শাহিনের নাম প্রকাশ করেন।
ডিবি পুলিশের এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অলক কুমার দে জানান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শাহিন কাজী এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী। ভাড়াটে খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে সমন্বয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের জামাতা পরশসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





