জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর প্রতিনিধি :
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার আজ শুধু একটি একাডেমিক বিভাগ নয়, এটি দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং মানবিক সেবার সমন্বয়ে কেন্দ্রটি দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক ড. কাজী এমরান হোসেন বলেন, ২০১৮ সালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি পর্যায়ে প্রথমবারের মতো ব্যাচেলর অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রাম চালু হয়। শুরু থেকেই শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্পব্যয়ে মানসম্মত ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে সেন্টারটি। সময়ের পরিক্রমায় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ও রিহ্যাবিলিটেশন ইউনিটে রূপ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের টেকনিক্যাল অফিসার ডাঃ মোঃ কবির হোসেন বলেন, বর্তমানে এই সেন্টারে নিয়মিত আউটডোর ফিজিওথেরাপি সেবা, স্ট্রোক ও নিউরোলজিক্যাল রিহ্যাবিলিটেশন, কোমর, ঘাড়, হাঁটু ও জয়েন্টজনিত ব্যথার চিকিৎসা, শিশুদের জন্য পিডিয়াট্রিক ফিজিওথেরাপি, স্পোর্টস ইনজুরি রিহ্যাবিলিটেশন, আধুনিক মাস্কুলোস্কেলিটাল আল যশোরের মনিরামপুর থেকে স্ট্রোকের রোগী আব্দুল মাজেদের স্বজন আমিনুর রহমান বলেন, ঢাকায় যাওয়ার সময় ও সামর্থ্য ছিল না। জাস্টের এই সেন্টারে চিকিৎসা নিয়ে আমার বাবার হাত-পা আবার নড়াচড়া করতে শুরু করেছে। এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ শর্মিলা জাহান বলেন, সেন্টারের কার্যক্রম শুধু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিতভাবে গ্রামে-গঞ্জে ফ্রি ফিজিওথেরাপি হেলথ ক্যাম্প আয়োজন করা হচ্ছে। এসব ক্যাম্পে স্ট্রোক রোগী, বয়স্ক মানুষ, কৃষক ও শ্রমজীবীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
সেন্টারের সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট সিনিয়র প্রভাষক ড. তোফাজ্জল হোসাইন বলেন, স্ট্রোক ও জটিল নিউরোলজিক্যাল রোগীদের পুনর্বাসনে আমরা আন্তর্জাতিক মানের থেরাপি প্রয়োগ করছি। এতে রোগীর সুস্থতা দ্রুত ফিরে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান, ডা. এহসানুর রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল চিকিৎসা দেওয়া নয়, বরং রোগীদের স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরিয়ে আনা। মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে আমরা এই সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালিন চেয়ারম্যান ড. ফিরোজ কবির বলেন, এই সেন্টার থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বাস্তব রোগী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। ফলে এখান থেকে বেরিয়ে আসা গ্র্যাজুয়েটরা দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারছেন।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও সমাজসেবার সমন্বয়ে কাজ করছে। ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার তার উজ্জ্বল উদাহরণ। ভবিষ্যতে এ পরিসর আরও বাড়ানো হবে। যশোরের বিশিষ্ট সাংবাদিক সোহরাব হোসেন বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন। সেন্টার প্রমাণ করেছে সঠিক পরিকল্পনা ও মানবিক উদ্যোগ থাকলে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও হতে পারে মানুষের ভরসাস্থল স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সমাজসেবার সমন্বয়ে এই সেন্টারের অবদান ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা করি।





