বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পুলিশের অভিযানে হাওর থেকে অপহৃত কিশোরী উদ্ধার, আতঙ্কে পরিবার

আল আমিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকা থেকে অপহৃত ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। ভিকটিম বর্তমানে পরিবারের জিম্মায় থাকলেও পুনরায় অপহরণের আশঙ্কায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে অসহায় পরিবারটি।

জানা গেছে, ইটনা উপজেলার কমলভোগ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সৌরভ (১৯) পাশ্ববর্তী মুদিরগাঁও গ্রামের বিল্লাল মিয়ার মেয়ে আঁখি আক্তার (১৩)-কে অপহরণ করে। আঁখি আক্তার কিশোরগঞ্জ শহরের শোলাকিয়া এলাকায় জনৈক এক ব্যাংক কর্মকর্তার বাসায় ভাড়া থেকে একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। তার পিতা বিল্লাল মিয়া সিলেট অঞ্চলে ক্ষুদ্র ব্যবসা করায় মা পারভীন আক্তার মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

ঘটনার দিন মাদ্রাসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আঁখিকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মেয়ে না পাওয়ায় ভিকটিমের পরিবার কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের কাছে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন।

বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ওসি অপহৃত শিশুকে উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব প্রদান করেন। পরদিন ইটনা উপজেলার কুর্শা এলাকায় অপহরণকারীর ফুফুর বাড়ি থেকে ভিকটিম আঁখি আক্তারকে উদ্ধার করা হয়।

ভিকটিমের জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী তার প্রকৃত জন্ম তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ (জন্ম নিবন্ধন সনদ নং- ২০১২৪৮১৩৩৬০১১৮৮০১)। কিন্তু অপহরণকারী চক্র বাল্যবিবাহকে বৈধ দেখানোর উদ্দেশ্যে প্রায় দুই মাস আগে কিশোরগঞ্জ জজকোর্ট এলাকায় একটি ভুয়া এভিডেভিট ও বিবাহ ঘোষণাপত্র তৈরি করে। ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে রেজিস্ট্রেশন নং-৫৯৭ এর ওই নোটারি চুক্তিনামায় আঁখি আক্তারের বয়স ১৯ বছর দেখিয়ে দুই লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিবাহ সম্পন্ন দেখানো হয়। ওই দলিলে চারজন সাক্ষীর স্বাক্ষর রয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অপহরণকারীরা ভিকটিমকে আটকে রেখে অন্যত্র পাচারের পরিকল্পনাও করছিল।

ভিকটিমের পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্কে রয়েছে। ভিকটিমের পিতা এ প্রতিবেদককে জানান, এর আগেও অপহরণকারীরা তার মেয়েকে জনসমক্ষে হাজির করলেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বেআইনি জনতার মাধ্যমে পুনরায় মেয়েকে ছিনিয়ে নেয়। পরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় পুনরায় অভিযান চালিয়ে তার মেয়েকে উদ্ধার করা হয়।

ভিকটিমের পরিবার প্রশাসনের কাছে কিশোরীর স্থায়ী নিরাপত্তা এবং অপহরণকারী চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

শেয়ার করুন