যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাতে যান। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা সময় ধরে বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। শুরুতেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন, তিনি জানেন সাংবাদিকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু কী। ফুটবল নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন আসবে ক্রিকেট প্রসঙ্গে এমন ধারণা থেকেই তিনি অনুরোধ জানান, ফুটবল সংক্রান্ত বিষয়গুলোও যেন গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়।
ফুটবল ও বাফুফে সংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে বক্তব্য দেওয়ার পর আসিফ নজরুল নিজ উদ্যোগেই আসন্ন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল একটি চিঠির মাধ্যমে কিছু আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্রথমত, যদি মুস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ দলের সদস্য হন; দ্বিতীয়ত, যদি বাংলাদেশের সমর্থকরা জার্সি পরে প্রকাশ্যে চলাফেরা করেন; এবং তৃতীয়ত, জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি তত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আইসিসির এমন নিরাপত্তা মূল্যায়ন নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের সেরা বোলারকে দল থেকে বাদ দেওয়া, সমর্থকদের জার্সি পরার স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া কিংবা ক্রিকেট আয়োজনের জন্য জাতীয় নির্বাচন পেছানোর মতো চিন্তা এর চেয়ে অবাস্তব, অযৌক্তিক ও হাস্যকর কিছু হতে পারে না।
মুস্তাফিজুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ নজরুল আরও বলেন, ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ নয় এমন আশঙ্কা আবারও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিসির নিরাপত্তা দলের এই পর্যবেক্ষণ নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে যে, ভারতের পরিবেশ বাংলাদেশের দলের জন্য অনুকূল নয় এবং সেখানে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা ঝুঁকিপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ভারত পাকিস্তান রাজনৈতিক বাস্তবতায় পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করতে চায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) ভারতের পরিবর্তে বিকল্প ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ম্যাচ আয়োজনের আগ্রহের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আসিফ নজরুল বলেন, তিনি সংবাদমাধ্যমে পাকিস্তানের আগ্রহের কথা দেখেছেন, তবে বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত নন। তবে ভারতের বাইরে অন্য কোনো দেশে খেলতে হলে বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই বলেও তিনি জানান।
আইসিসির নিরাপত্তা টিম ঠিক কখন এবং কার কাছে ওই চিঠি পাঠিয়েছে সে বিষয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে সাংবাদিকদের সামনে তিনি আশ্বাস দেন, সময়মতো সেই চিঠি গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা হবে।





