ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সরকারি সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, সম্প্রতি ইরানের ভেতরকার রাজনৈতিক উত্তেজনা, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। আলোচনা একমাত্র বিষয় ছিল ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি। যদিও বৈঠকে কী বিষয়ে আলাপ হয়েছে তা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও সতর্কতা জারি করে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। মূলত অর্থনৈতিক সমস্যাই এই বিক্ষোভের প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানি রিয়েলের মান ভয়ঙ্করভাবে কমে গেছে। বর্তমানে ১ ডলারের বিনিময়ে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল পাওয়া যাচ্ছে।
জাতীয় মুদ্রার এই দুর্বলতার কারণে ইরানে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ২৮ ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দেন। এই ধর্মঘট থেকে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় এবং খুব দ্রুত তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের শহর ও গ্রামে বিক্ষোভ চলমান এবং দিন দিন তীব্রতা বাড়ছে।
ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সদস্যদেরও নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনা ও আইআরজিসির সঙ্গে সংঘাতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছেন। তবে ইরানের স্থায়ী শত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখনও সরকারিভাবে বিক্ষোভ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েল সামরিক অভিযান চালিয়ে ১২ দিনের জন্য সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। সেই সময় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু আঞ্চলিক উত্তেজনা এখনও রয়েছে।





