শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইয়াবা পাচারে অভিনব পদ্ধতি, র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার : 
পায়ুপথে অভিনব কৌশলে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা পরিবহণের সময় এক আন্তঃজেলা মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৫ এর সিপিএসসি ইউনিট। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. শাহানুর রহমান শাহিন (৩২)। এ সময় তার কাছ থেকে ৯৮৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। র‍্যাব সূত্র জানায়, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে এরই অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানে এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৫, সিপিএসসি জানতে পারে যে, একজন মাদক ব্যবসায়ী ট্রেনযোগে অবৈধ মাদকদ্রব্য বহন করে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দিকে আসছে। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই ও মাদক কারবারিকে আটক করতে র‍্যাবের একটি গোয়েন্দা দল রাজশাহী জেলার বাঘা থানাধীন আড়ানী রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করে।
ইংরেজি ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে র‍্যাবের একটি আভিযানিক দল বাঘার আড়ানী এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন একজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষীদের সামনে তার দেহ তল্লাশি করা হলে পায়ুপথের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় মোট ৯৮৮ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি মো. শাহানুর রহমান শাহিন নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া থানার পানকা গ্রামের বাসিন্দা এবং সে মো. রমজান আলীর ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সে একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা মাদক চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে সে নিজের পেশার আড়ালে ট্রেন ও বাস ব্যবহার করে কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী অজ্ঞাত এলাকা থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা ও ফেন্সিডিল সংগ্রহ করত। পরে সেগুলো রাজশাহী জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় খুচরা ও পাইকারি দরে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের কাছে সরবরাহ করে আসছিল।
র‍্যাব আরও জানায়, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত যে কাউকে আইনের আওতায় আনা হবে। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে রাজশাহীর বাঘা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র‍্যাব-৫ কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে জানায়, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
শেয়ার করুন