বিগত ২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭৫৮৪টি। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭৩৫৯ জন এবং আহত হয়েছেন ১৬৪৭৬ জন।
নিহতদের মধ্যে নারী ৯৬২ (১৩.০৭%) এবং শিশু ১০০৮ (১৩.৬৯%)। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২৬৭১ জন, যা মোট নিহতের ৩৬.২৯ শতাংশ এবং মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৯.৯৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় পথচারী নিহত হয়েছেন ১৫৬৪ জন (২১.২৫%), আর যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৯৪১ জন (১২.৭৮%)।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ২০২৫ সালের সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন তুলে ধরেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ। প্রতিবেদনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
২০২৫ সালে নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৩২টি, যেখানে ১৪৯ জন নিহত, ১২৩ জন আহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ। ৫১৯টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৪৭৮ জন নিহত এবং ১৫২ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র:
মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী: ২৬৭১ জন (৩৬.২৯%)
বাসযাত্রী: ৪১৬ জন (৫.৬৫%)
পণ্যবাহী যানবাহনের আরোহী: ৪৮০ জন (৬.৫২%)
প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ আরোহী: ২৩৫ জন (৩.১৯%)
থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা-মিশুক): ১৩৭৬ জন (১৮.৬৯%)
স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-করিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-টমটম): ৪৮৯ জন (৬.৬৪%)
বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা আরোহী: ১২৮ জন (১.৭৩%)
দুর্ঘটনার সড়কের ধরন:
জাতীয় মহাসড়ক: ২৬৯৮টি (৩৫.৫৭%)
আঞ্চলিক সড়ক: ২৮৬৫টি (৩৭.৭৭%)
গ্রামীণ সড়ক: ৯৬৮টি (১২.৭৬%)
শহরের সড়ক: ৯৯২টি (১৩.০৮%)
অন্যান্য: ৬১টি (০.৮০%)
দুর্ঘটনার ধরন:
মুখোমুখি সংঘর্ষ: ১৭৯২টি (২৩.৬২%)
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে: ৩০৭৩টি (৪০.৫১%)
পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া: ১৫৭৬টি (২০.৭৮%)
যানবাহনের পেছনে আঘাত: ১০০৪টি (১৩.২৩%)
অন্যান্য: ১৩৯টি (১.৮৩%)
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা:
মোট ১২৩৮৯টি যানবাহন। বাস: ১৭১৯, পণ্যবাহী যানবাহন: ৩৪১৪, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ: ৬০০, মোটরসাইকেল: ৩১৫৬, থ্রি-হুইলার: ২১২৯, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন: ৭৬৩, বাইসাইকেল: ১১০, প্যাডেল রিকশা: ১৭৭, অজ্ঞাত গাড়ি: ৩২১।





