জেলা প্রতিনিধি (নওগাঁ):
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আত্রাই নদীর শাখা ফকিন্নি নদীর পাড়ি কেটে অবৈধভাবে মাটি লুট করে নিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ উঠেছে—স্থানীয়দের বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মান্দা উপজেলার ১৪ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের যশোপাড়া এলাকায় ফকিন্নি নদী খননের মাটি অবৈধভাবে কেটে ট্রাক্টর ও এস্কেভেটর দিয়ে বহন করা হচ্ছে। এ কাজে জড়িত রয়েছে নহলা কালুপাড়া গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে, কথিত অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী জাহিদ।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক সামাদ, রহিম, কাদের, জরিনা সহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, অবৈধ এস্কেভেটর ও ট্রাক্টরের অতিরিক্ত চলাচলে গ্রামের কাঁচা রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ধুলাবালু উড়ে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা তাদের।
এ বিষয়ে ১৪ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন- “দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র বিভিন্ন নেতার নাম ভাঙিয়ে জাহিদ অবৈধভাবে মাটি চুরির ব্যবসা চালিয়ে আসছে। প্রভাবশালী পরিচয়ের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি দাম্ভিকতার সহিত বলেন – “আমি প্রশাসনের কারো কাছে কোন অনুমতি নেইনি কৃষকদের কথাই আমি মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
কশব–বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মাসুদা খাতুন বলেন, অবৈধ মাটি খননের খবর পেয়ে জাহিদকে নিষেধ করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে জানানো হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখ জানান,মাটি খননের বিষয়টি অবগত হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, ফকিন্নি নদী কয়েক বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক খনন করা হয়। টেন্ডার ছাড়া কেউ মাটি নিয়ে গেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড, নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান আরিফ স্পষ্ট করে বলেন,“দুই বছর আগে খনন শেষে পাড়ের মাটি ভূমি ও প্রশাসন বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিনা অনুমতিতে এসব মাটি অন্য কারো নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
এদিকে প্রশাসনের দীর্ঘ নীরবতায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। দ্রুত অবৈধ মাটি লুট বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা





