বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসলামপুরে প্রশাসনের নীরবতায় যমুনা–ব্রহ্মপুত্র–দশআনী নদী লুট: অবৈধ বালু উত্তোলনে সর্বনাশের পথে জনপদ 

ছবি: প্রতিনিধি
ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি :
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও দশআনী নদী থেকে প্রকাশ্যেই চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। দিনের আলোতে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক ব্যবহার করে নদীর বুক চিরে বালু লুট হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনকভাবে নীরব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনে নদী থেকে বালু তুলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো অভিযান না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসন কি দায়িত্বে ব্যর্থ, নাকি এই লুটপাটের নীরব অংশীদার?
ছবি: প্রতিনিধি
অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের গ্রামগুলোতে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকিতে পড়েছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, আজ নদী কাটছে, কাল ঘরবাড়ি ভাঙবে তবুও প্রশাসনের টনক নড়ছে না।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন চলতে থাকলে ইসলামপুর এলাকায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় অনিবার্য। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে জরুরি অভিযান পরিচালনা, অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় জনগণের ক্ষোভ যে আরও বিস্ফোরক রূপ নেবে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজোয়ান ইফতেকার বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। কোথাও অনিয়ম বা অবৈধ কার্যক্রমের তথ্য থাকলে ছবি তুলে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শেয়ার করুন