বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মৃত্যুর মুখে যুক্তরাজ্যে কারাগারে অনশনরত ফিলিস্তিনপন্থি দুই অ্যাক্টিভিস্ট

ব্রিটেনের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সঙ্গে যুক্ত দুই অ্যাক্টিভিস্ট হেবা মুরাইসি ও কামরান আহমেদ টানা দুই মাসের বেশি সময় ধরে অনশন চালাচ্ছেন। এ কারণে তাদের স্বাস্থ্য আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চিকিৎসকদের সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও তারা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। এই খবরটি কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা প্রকাশ করেছে।

হেবা মুরাইসির বন্ধু আমরিন আফজাল জানান, “মুরাইসি খুব ফ্যাকাশে, দুর্বল ও শীর্ণ হয়ে পড়েছেন। তার পেশিতে খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, তীব্র ব্যথা এবং স্মৃতিভ্রংশ দেখা দিচ্ছে। একাধিকবার হাসপাতালে নেওয়া হলেও তিনি অনশন ভাঙতে রাজি হননি।”

২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানি এলবিট সিস্টেমসের যুক্তরাজ্যের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানে ব্রিস্টলে চুরি এবং অক্সফোর্ডশায়ারে রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ঘাঁটিতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের রিমান্ডে নিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও ছয় অ্যাক্টিভিস্টকেও আটক করা হয়েছিল। তবে তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যুক্তরাজ্যে বিচার-পূর্ব আটকের (রিমান্ড) সীমা ছয় মাস। কিন্তু তাদের বিচার শুরু হওয়ার আগেই এক বছর কারাগারে থাকতে হবে।

হেবা মুরাইসি ৬৭ দিন এবং কামরান আহমেদ ৬০ দিন ধরে অনশন চালাচ্ছেন। এছাড়া ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বন্দি লিউই কিয়ারামেলো মাঝেমধ্যে খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকছেন। আহমেদ বুকে ব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া হৃদস্পন্দন সমস্যায় ভুগছেন। লিউই কিয়ারামেলোর ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক কোমায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের শারীরিক অবস্থার স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে এবং যে কোনো সময় মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কামরান আহমেদের বোন শাহমিনা আলম বলেন, “প্রতিবারই আমরা তাদের দেখতে যাচ্ছি, এটাই শেষ দেখা হতে পারে, এটা মাথায় নিয়েই। ওরা জানেও যে, যেকোনো সময় মারা যেতে পারে, তবুও অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।”

অনশনকারীরা জামিন, ন্যায্য বিচার এবং যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের নাম প্রত্যাহারের দাবি করেছেন। তারা ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের স্থাপনা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এবং কারাগারে সেন্সরশিপের অভিযোগও তুলেছেন।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বন্দিদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলে নিন্দা জানিয়েছেন। তারা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও অনশনকারীদের হাতকড়া পরানো হয়েছে। শতাধিক চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন। সমর্থকরা এই অনশনকে ১৯৮১ সালের আইরিশ রিপাবলিকান অনশন আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে নেতা ববি স্যান্ডস অনশনের ৬৬তম দিনে মারা যান—যা মুরাইসির অনশনের ৬৬তম দিনের সঙ্গে মিলছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সমালোচকেরা অভিযোগ করছেন, সরকার অনশনকারীদের জীবন নিয়ে চরম অবহেলা ও অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে।

শেয়ার করুন