মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজশাহীতে শিশুশ্রম নিরসনে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

অপু দাস (স্টাফ রিপোর্টার) রাজশাহী : ছবি, অপু দাস
শিশুশ্রম নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও সমন্বিত প্রচেষ্টা জোরদারের লক্ষ্যে রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ের একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ আয়োজনে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহীর ন্যাশনাল অকুপেশনাল হেলথ অ্যান্ড সেফটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) মহাপরিদর্শক ওমর মো. ইমরুল মহসিন। তিনি স্বাগত বক্তব্যে কর্মশালার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানওয়ার জাহান ভূইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. এ.এন.এম. বজলুর রশীদ।
কর্মশালায় শিশুশ্রম নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ, বিদ্যমান বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি শিশুশ্রম প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শিশুশ্রমের সঙ্গে মানবপাচার, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধ জড়িত থাকে। এসব অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুদের উদ্ধার করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
রাজশাহী অঞ্চলে শিশুশ্রমের বাস্তব চিত্র ও সমাধানের পথ তুলে ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ফখরুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র্য, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং শিক্ষার অভাব শিশুশ্রম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তিনি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ ও শিশুদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ছবি: অপু দাস
শিশুশ্রম নিরসনে অর্জন ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন ডিআইএফই-এর যুগ্ম মহাপরিদর্শক মোসা. জুলিয়া জেসমিন। তিনি সরকারের গৃহীত নীতিমালা, আইন প্রয়োগের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডিআইএফই মহাপরিদর্শক ওমর মো. ইমরুল মহসিন বলেন, শিশুশ্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়, বরং একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজের সব স্তরে সচেতনতা তৈরি করলেই শিশুশ্রম নিরসন সম্ভব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. এ.এন.এম. বজলুর রশীদ বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে একটি মানবিক ও উন্নত সমাজ গড়ে উঠবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানওয়ার জাহান ভূইয়া বলেন, শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম সম্পূর্ণ নির্মূল এবং অন্যান্য খাতে শিশুশ্রম ধাপে ধাপে বন্ধ করতে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কর্মশালায় জাতীয় পর্যায়ে শিশুশ্রম পরিস্থিতি ও এ বিষয়ে আইএলও’র সহায়তা তুলে ধরে বক্তব্য দেন আইএলও বাংলাদেশ-এর জাতীয় পরামর্শক হালিমা আক্তার। এছাড়া শিশুশ্রম নিরসন ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানে ইউসেপ বাংলাদেশের অবদান তুলে ধরেন সংস্থাটির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. শাহিনুল ইসলাম।
প্লেনারি আলোচনায় অংশ নেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম, উপসচিব মো. আবদুল ওয়াদুদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কর্মশালায় ভবিষ্যতে শিশুশ্রম নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং টেকসই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনা শেষে কর্মশালার সমাপনী অধিবেশন ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, কর্মশালাটি ‘টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ অন ডিসেন্ট ওয়ার্ক ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে এবং ডেনমার্ক ও সুইডেন দূতাবাসের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
শেয়ার করুন