মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কলেজছাত্র রিয়াদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাকিন গ্রেপ্তার

জলিলুর রহমান জনি (সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি):
সিরাজগঞ্জ শহরের কলেজছাত্র আব্দুর রহমান রিয়াদ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মো. সাকিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার সাভার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সাকিন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ধানবান্ধি মহল্লার মতি’র ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির অপারেশনস অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মো. উসমান গণি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, বুধবার দুপুরে র‌্যাব সদর কোম্পানির একটি চৌকস দল ঢাকার সাভার থানার বিরুলিয়া ইউনিয়নের কালিয়াকৈর এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান “আলফা জোন এন্ড কোম্পানি”-তে অভিযান চালিয়ে সাকিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের চৌরাস্তা মোড়ের বাহিরগোলা রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজছাত্র আব্দুর রহমান রিয়াদকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। ওইদিন রাতে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত রিয়াদ শহরের সয়াধানগড়া খাঁ পাড়া মহল্লার রেজাউল করিমের ছেলে এবং ইসলামিয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যও ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ফুটেজে দেখা যায়, রিয়াদ একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় বসে ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন দিক থেকে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে কয়েকজন তরুণ অটোরিকশার ভেতরেই তাকে উপর্যুপরি আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহত রিয়াদের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাকিনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে চৌরাস্তা মোড় এলাকার একটি ভবনের পাশে রিয়াদ ও প্রধান আসামি সাকিনসহ মোট ৩৬ জন প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে যান। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রিয়াদ ও তার তিন বন্ধু বাহিরগোলা রোডে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় বসে থাকাকালে পরিকল্পিতভাবে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে প্রধান আসামি সাকিন বার্মিজ চাইনিজ টিপ চাকু দিয়ে রিয়াদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে অন্যান্য আসামিরা চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার সাকিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে রিমান্ড আবেদন করা হবে। তিনি আরও জানান, এর আগেও এই হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শেয়ার করুন