বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভঙ্গের অভিযোগ জামায়াতের

ফাইল ছবি

সারাদেশে নির্বাচনী পরিবেশ মারাত্মকভাবে অসম হয়ে পড়েছে—এমন অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত ও মৌখিকভাবে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তার অভিযোগ, নির্বাচনে কাউকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, আবার কাউকে ন্যূনতম নিরাপত্তাও দেওয়া হচ্ছে না, যা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন তিনি। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

বৈঠক শেষে ডা. তাহের বলেন, এখনো সবার জন্য সমান নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। প্রচারণার ক্ষেত্রে কিছু রাজনৈতিক নেতাকে বাড়তি প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিচ্ছে। তার ভাষায়, প্রটোকল সবার জন্য সমান না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সারাদেশে নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভয়াবহভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং এ অবস্থার অবসান জরুরি।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রশাসনে দলীয় প্রভাব স্পষ্ট এবং অবিলম্বে দলীয় জেলা প্রশাসকদের অপসারণ না করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, একতরফা নির্বাচন হলে যেমন একটি দল রাজনৈতিক মাঠ থেকে বিদায় নিয়েছে, তেমনি যারা এ ধরনের অনিয়মে যুক্ত থাকবে তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। এতে করে দেশ রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মনোনয়নপত্র যাচাইয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, মামলার বিষয় থাকা সত্ত্বেও বিএনপির বহু প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, অথচ জামায়াতের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তা বাতিল করা হয়েছে। এমনকি দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার পরও বিএনপির একজন নেতার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা স্পষ্ট বৈষম্যের উদাহরণ।

এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল ভোটারদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করছে, যা সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘন। বিষয়টি বন্ধে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হলে কমিশন এতে সম্মতি জানিয়েছে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে যেসব তথ্য ছড়িয়েছে, সেগুলো সঠিক নয় বলেও স্পষ্ট করেন জামায়াতে ইসলামীর এই শীর্ষ নেতা।

শেয়ার করুন