মোঃ সুমন খান (গলাচিপা প্রতিনিধি)
পটুয়াখালী -৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি পক্ষ থেকে গণ অধিকার পরিষেদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে আসন ছাড় দিলেও নির্বাচনী এলকার স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশকে পাচ্ছেনা নূর। বিএনপির বিদ্রোহি প্রার্থী জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছেন তারা, এ নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ নূর।
ইতি মধ্যে দল থেকে হাসান মামুনকে বহিস্কার করা হলেও স্থানীয় বিএনপি থেকে যাচ্ছে তারই সাথে। তারা জানান দল যে সিদ্ধান্ত নিক না কেন আমরা হাসান মামুনের সাথেই আছি। এমন পরিস্থিতিতে জয় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সাবেক ভিপির।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় বিএনপি যে কিছু করতে পারবে তেমনটাও মনে হচ্ছে না। ক্রমেই জয়ের পাল্লা ভারি হচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মানুনের। এ আসনে বরাবরেই দুর্বল ছিলো বিএনপি।
৯০ পরবর্তীতে কোন নির্বাচনেই জিততে পারেনি ধানের শীষ। আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টাতে শুরু করেছে। বিএনপি নেতা শাহজাহান খানের মৃত্যুর পরে কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুনের নেতৃত্বে দলটি ক্রমশই সুসংঘটিত হচ্ছে।
৫ই আগষ্টের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে স্থানীয় বিএনপি এ আসনটি পুনুরুদ্ধানের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে দল থেকে কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ায় হতাশ স্থানীয় বিএনপি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে নূরকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হলে বিরোধীতায় নামেন বিএনপি নেতা হাসান মামুন, করছেন স্বতন্ত্র নির্বাচন।
এমকি প্রয়োজনে দল ছাড়ারও গুঞ্জন রয়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর দেওয়া এক চিঠিতে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চান তিনি। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে তাকে বহিস্কারের ঘোষণা দেন বিএনপি।
বহিস্কার হওয়ার পরও তিনি মাঠ ছাড়েন নি বরং দুই উপজেলার ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের পদধারী সব নেতা রয়েছেন তার সাথে। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত নূর এরই মধ্যে বিভিন্ন সভায় ক্ষোপ প্রকাশ করেছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় বিএনপি সমর্থন পাওয়ার পরেও যারা তাকে সহযোগীতা করছেন না তাদের বিরুদ্ধে নালিশ জানানোর কথা বলছেন তিনি। নুরুল হক নুর বলে যুগপথ আন্দোলনে থাকা শরীকদের জন্য ১২ টি আসন ছেড়েছে বিএনপি, কোন আসনেই স্থানীয় বিএনপির পূর্ণ সমর্থণ বা সহযোগীতা পাচ্ছেনা জোট কিংবা সমমনা দলেল প্রার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক ব্যক্তি জানান আই ওয়াশের জন্যই এ আসনটি মুলত নূরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা দল থেকে গোপনে হাসান মামুনের পক্ষে গ্রীন সিগনাল পেয়েছি।
তবে এটিকে কেউ কেউ ভোট টানার কৌশল হিসেবে দেখছেন। গলাচিপা পৌর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন আমরা জোট-ফোট বুঝিনা, আমরা চিনি হাসান মামুন তিনি নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছেন। গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান অন্য দলের লোক এনে এমপি বানালো কি হয় তা আমরা পূর্বে দেখেছি।
২0১৮ সালে গোলাম মাওলা রনি-কে ধরে এনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিলো গত ৭ বছরের এলাকায় তার চেহেরা দেখতে পাইনি। সব কিছু বুঝে-শুনে হাসান মামুনের পক্ষ নিয়েছি।
দল যে ব্যবস্থাই নেক, আমরা শেষ পর্যন্ত হাসান মামুনের পক্ষে আছি। দশমিনা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন আমরা সুখে-দুঃখে হাসান মামুনকে কাছে পেয়েছি, তাকে ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসেনা। দুই উপজেলার সাধারণ ভোটারদের সাথে আলাপ কালে তারা বলেন-বিএনপির তৃণমুল নেতা-কর্মীদের সমর্থন না পেলে নির্বাচনে জয় লাভ করা কঠিন হয়ে পরবে নূরের।
এছাড়াও জামাত ইসলামীর পার্থী অধ্যাপক শাহ আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুবক্কর সিদ্দিক ও নুরুল হক নুরের বাড়ী এ উপজেলায়।গলাচিপা উপজেলার ভোট যেখানে ৩ ভাগ হবে সেখানে দশমিনা উপজেলা থেকে একমাত্র প্রার্থী হাসান মামুন। সব মিলিয়ে ভোটের যুদ্ধের সমিকরনে এগিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুন।





