জুম্মান হোসেন, যশোর প্রতিনিধি :
যশোর শহরের শংকরপুরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় আটক দুই আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা শংকরপুর ইসহাক সড়কের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুলুর ছেলে এবং নিহত আলমগীর হোসেনের জামাতা বাসেদ আলী পরশ ও একই এলাকার মৃত মতিন দারোগার ছেলে আসাবুল ইসলাম সাগর।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাসেদ আলী পরশ নিহত আলমগীর হোসেনের জামাতা। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পরশের স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি হলে একপর্যায়ে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা হলেও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকে যায়। প্রায় এক মাস আগে পরশের স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে গেলে এরপর থেকেই পরশ নিহত আলমগীর হোসেনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, আসাবুল ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে হামলা চালান। জাহাঙ্গীর হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ওই সময় আলমগীর হোসেন বাধা দিলে সাগর তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
পরবর্তী সময়ে সাগর বিভিন্নভাবে আলমগীর হোসেনকে হুমকি দিতে থাকেন। এমনকি ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে হুমকিমূলক বার্তাও পাঠানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, সাগর ও পরশ পরস্পর যোগসাজশে ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। এ ঘটনায় নিহত আলমগীর হোসেনের স্ত্রী শামীমা বেগম বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় বাসেদ আলী পরশ ও আসাবুল ইসলাম সাগরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬–৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আটক দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।





