শনিবার, ২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাদিকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীর নাম প্রকাশ করল ডিবি

ঢাকার মিরপুরের যুবলীগ নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশনায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মিন্টো রোডের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাদি কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

হাদি হত্যার ঘটনায় মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৫ জন এখনও পলাতক। ডিবি প্রধান জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে।

ফয়সাল করিম মাসুদসহ কয়েকজন অভিযুক্তের ভিডিওবার্তার উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিডিওবার্তা দেওয়া সম্ভব, তবে প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের হাদির হত্যায় জড়িত থাকার তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরপরই, ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় বসে থাকা অবস্থায় মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থা অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, কিন্তু তিন দিন পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

হাদির ওপর হামলার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ফয়সাল করিম মাসুদকে আসামি করে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

শেয়ার করুন