অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহীতে জেঁকে বসেছে চলতি মৌসুমের সবচেয়ে তীব্র শীত। মঙ্গলবার ভোরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সঙ্গে ঘন কুয়াশা যোগ হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এমন তাপমাত্রা পতনে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
সকাল থেকেই রাজশাহীতে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে। কুয়াশার কারণে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে নৌ ও রেল যোগাযোগও। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এদিকে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, দেশ এখনো ‘কুয়াশা বেল্ট’-এর প্রভাবে রয়েছে। ফলে অনেক এলাকায় দুপুরের আগে সূর্যের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় দুপুরের আগেই রোদের দেখা মিলতে পারে। তবে বরিশাল, ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বহু এলাকায় সারাদিনই আকাশ কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকতে পারে।
জানুয়ারিতে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, চলতি জানুয়ারি মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
এর মধ্যে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ: ২ থেকে ৩টি (তাপমাত্রা ৮–১০ ডিগ্রি থেকে ৬–৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ: ১ থেকে ২টি (তাপমাত্রা ৬–৮ ডিগ্রি থেকে ৪–৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের আশঙ্কা নেই। তবে স্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত হতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত, কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।





