বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্প–মাদুরোর সংকট, প্রশ্ন তুলছে জনপ্রিয় সিরিজ ‘জ্যাক রায়ান’

কখনো কখনো কল্পনার জগতে নির্মিত গল্প বাস্তব ঘটনাকেও ছাপিয়ে যায়—এমন উদাহরণ বিরল নয়। ঠিক তেমনই এক অদ্ভুত সমাপতন ঘিরে সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাক রায়ান’। ছয় বছর আগে মুক্তি পাওয়া এই সিরিজের একটি দৃশ্য নতুন করে নেটিজেনদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে নিছক কাকতালীয় না বলে ‘আগাম সতর্কবার্তা’ কিংবা ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। ২০১৯ সালে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জ্যাক রায়ান’-এর দ্বিতীয় সিজনের একটি দৃশ্যে দেখা যায়, সিআইএ বিশ্লেষক চরিত্রে অভিনয় করা জন ক্রাসিনস্কির জ্যাক রায়ান এক বৈঠকে উপস্থিত গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন—বিশ্ব রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ কোন দেশ থেকে আসতে পারে? উত্তরে এক কর্মকর্তা রাশিয়ার নাম উল্লেখ করেন।

পরে চীনের কথাও উঠে আসে আলোচনায়। জ্যাক রায়ান তখন সেই উত্তরগুলোকে গ্রহণযোগ্য বললেও আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দেন ভিন্ন এক দিকে। সেই দৃশ্যে জ্যাক রায়ান ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, দেশটি ভবিষ্যতে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম বড় সংকটের উৎসে পরিণত হতে পারে। তার যুক্তি ছিল—ভেনেজুয়েলার ভূগর্ভে রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। তেলের মজুতের দিক থেকে দেশটি সৌদি আরব কিংবা ইরানকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, আফ্রিকা মহাদেশের সব খনি থেকে পাওয়া খনিজ সম্পদের চেয়েও বেশি সম্পদ ভেনেজুয়েলায় রয়েছে।

জ্যাক রায়ানের ভাষ্যে, এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলা ধীরে ধীরে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে রূপ নিতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এটি ভবিষ্যতে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

এই কাল্পনিক দৃশ্য নতুন করে আলোচনায় আসে সাম্প্রতিক এক বাস্তব ঘটনার পর। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করেন বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ‘ভেনেজুয়েলার শাসনভার এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে’—এমন বক্তব্য দর্শক ও সিরিজপ্রেমীদের বিস্মিত করে তোলে। কারণ, ছয় বছর আগে প্রচারিত সিরিজের কাহিনির সঙ্গে এই ঘটনার বিস্ময়কর মিল লক্ষ্য করা যায়।

এই অপ্রত্যাশিত মিল নিয়ে সিরিজটির সহ-নির্মাতা কার্লটন কিউসও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের উদ্দেশ্য কখনোই ভবিষ্যৎ অনুমান করা ছিল না বরং বাস্তবসম্মত একটি রাজনৈতিক থ্রিলার নির্মাণই ছিল লক্ষ্য। তবে তার মতে, বাস্তব বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক সময় এমন মোড় নেয়, যা কল্পনাকেও বাস্তবে পরিণত করে দেয়।

শেয়ার করুন