ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপকে আত্মরক্ষামূলক ও ন্যায্য বলে মন্তব্য করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি এ অভিযানের প্রতি স্পষ্ট সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন পদক্ষেপ কখনো কখনো অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কট্টর ডানপন্থী এই ইতালীয় নেতা বলেন, কোনো দেশের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ আদর্শ সমাধান নয়। তবে যেসব রাষ্ট্র কাঠামোগতভাবে মাদক পাচারসহ সংঘবদ্ধ অপরাধকে আশ্রয় দেয় কিংবা উৎসাহিত করে, সেসব রাষ্ট্র থেকে আসা বহুমাত্রিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষামূলক সামরিক উদ্যোগ গ্রহণ যৌক্তিক বলে তিনি মত দেন। মেলোনির ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের সার্বভৌম নিরাপত্তা রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
এদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক করার ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেন, আটক হওয়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার আওতায় কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং এসব অপরাধের বিচার আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাস ধরে চলা কূটনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও আইনি পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় এই সামরিক অভিযান এবং আটকই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ।





