রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের নজর ভেনেজুয়েলার তেল ও গ্যাস সম্পদ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্রে আটক করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতা এবং জ্বালানি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

ট্রাম্প আরও জানান, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন, মাদুরোর প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও অস্ত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত। তবে এই অভিযানের মূল লক্ষ্য তার বক্তব্য অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভাণ্ডার, সঙ্গে রয়েছে গ্যাসের অতিরিক্ত প্রাপ্তি।

নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন বিজনেস এবং বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) হিসাব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সর্বাধিক অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে। প্রাপ্ত পরিমাণ ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বৈশ্বিক তেল ভাণ্ডারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। তবে বর্তমানে এ খনি থেকে উত্তোলিত হচ্ছে অতি সামান্য তেল। প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দৈনিক অপরিশোধিত তেলের সরবরাহের মাত্র ০.৮ শতাংশ আসে ভেনেজুয়েলা থেকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নিজের দেশেও প্রচুর জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে, তবুও কেন তাদের ভেনেজুয়েলার তেলে আগ্রহ? এর মূল কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের তেল হালকা এবং এ ধরনের অপরিশোধিত তেলকে ‘সুইট ক্রুড’ বলা হয়। সুইট ক্রুড গ্যাসোলিন জাতীয় জ্বালানি তৈরির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল ভারী ও ঘন, যা পরিশোধন ও ব্যবহারে অতিরিক্ত যত্ন দাবি করে।

যাইহোক, এই ধরনের ভারী তেল পরিশোধের মাধ্যমে উচ্চমানের ডিজেল, অ্যাসফল্ট, শিল্প-কারখানায় ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি, এবং অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতির জন্য উপযোগী জ্বালানিপণ্য তৈরি করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র যদি দেশের গাড়ি চলাচল ও অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করতে চায়, তবে এ ধরনের ভারী তেলের ওপরই নির্ভর করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধনাগারগুলো এই ভারী তেলের জন্য নতুন করে পুনঃসংগঠন করতে হবে। এতে কয়েক হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এ কারণে বর্তমানে কেউ এই উদ্যোগ নিতে বিশেষ আগ্রহী নয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক তেল উত্তোলন করা হয়, তবুও ভারী তেলের চাহিদা মেটাতে দেশটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল।

যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত অধিকাংশ হালকা অপরিশোধিত তেল বিদেশে রপ্তানি করা হয়। এর ফলে টেক্সাস ও লুইজিয়ানার পরিশোধনাগারগুলো কার্যক্রম চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার ব্যারেল ভারী তেল আমদানি করতে হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে ভেনেজুয়েলা স্বাভাবিকভাবে প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়াও কানাডা ও রাশিয়ার পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম ভারী তেলের মজুদ ভেনেজুয়েলায় রয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভেনেজুয়েলা অত্যন্ত সুবিধাজনক। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি মার্কিন ভূখণ্ডের কাছাকাছি হওয়ায়, তেল আমদানি করার ক্ষেত্রে পরিবহন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কম পড়ে।

শেয়ার করুন