বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নওগাঁর মান্দায় আত্রাই নদীতে বিলীন হচ্ছে মা মাছ ও মৎস্য অভয়াশ্রম, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদী ও এর সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ছয়টি মৎস্য অভয়াশ্রম কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নিয়মিত তদারকি ও সংরক্ষণের অভাবে এসব অভয়াশ্রম এখন অবৈধ মাছ শিকারিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে নদী ও অভয়াশ্রমে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান মা মাছ নির্বিচারে নিধন হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভয়াশ্রমগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নজরদারির অভাবে দিন-রাত অবাধে চলছে মাছ ধরার উৎসব। নদীর তীরবর্তী একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই অবৈধ মাছ শিকারীরা নির্বিঘ্নে মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে দিনে দিনে ধ্বংসের মুখে পড়ছে আত্রাই নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ।
অফিস সূত্রে জানা যায়, এডিপি প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মৎস্য অভয়াশ্রমে সিসি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত লাইটিং ব্যবস্থা, দুটি করে স্ট্রিট লাইট, মাছ রক্ষায় কাঁটা, কাঠা ও ব্লক স্থাপন এবং পাহারার জন্য লোকবল নিয়োগের কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায়নি। ছয়টি অভয়াশ্রমের মধ্যে মাত্র একটি অভয়াশ্রমে একটি স্ট্রিট লাইটের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বাকি অভয়াশ্রমগুলোতে আলো, নিরাপত্তা কিংবা সংরক্ষণ—কোনোটিরই ব্যবস্থা নেই।
আলোর অভাব ও নজরদারি না থাকায় অবৈধ মাছ শিকারীরা রাতের আঁধারে ও দিনের আলোতে জাল, কারেন্ট জালসহ নানা নিষিদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। এতে নদী ও অভয়াশ্রমে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ বিলুপ্তির পথে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা বর্তমানে একটি মাত্র মৎস্য অভয়াশ্রমের জন্য সরকারি বরাদ্দ পেয়েছি এবং সেটির কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ঘুলহারিয়া মৎস্য অভয়াশ্রমটি নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি না বাড়ালে অচিরেই আত্রাই নদী ও এর অভয়াশ্রমগুলো মৎস্যশূন্য হয়ে পড়বে।
শেয়ার করুন