রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুরে খোকন দাস হত্যার ঘটনায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার

শরীয়তপুরের ফার্মেসি মালিক ও বিকাশ এজেন্ট খোকন দাস (৫০) হত্যার ঘটনায় প্রধান তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টায় র‍্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল কোম্পানি কমান্ডার এএসপি শাহজাহানের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ,কনেশ্বর এলাকার সোহাগ খান (২৭), বাবুল খানের ছেলে,সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১),শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।

র‍্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামিদের কিশোরগঞ্জ থেকে মাদারীপুর র‍্যাব-৮ ক্যাম্পে আনা হচ্ছে। বিকেলে কর্মকর্তারা ব্রিফিংয়ে গ্রেপ্তারের বিস্তারিত জানাবেন।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানিয়েছেন, মৃত্যুর পূর্বে ভুক্তভোগী খোকন দাস গ্রেপ্তারকৃতদের নাম উল্লেখ করেছিলেন। গ্রেপ্তারকৃতরা মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

ভুক্তভোগী খোকন দাস একজন ওষুধ ও বিকাশ ব্যবসায়ী। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় কেহরভাঙ্গা বাজারস্থ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির নিকটবর্তী তিলই এলাকায় পৌঁছামাত্র ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে এবং সঙ্গে থাকা নগদ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়।

হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে চিনে ফেলায় তারা ভুক্তভোগীর শরীর ও মুখে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা খোকন দাসকে গুরুতর আহত ও দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত এবং নানা ধরনের মাদক সেবনকারী হিসেবে পরিচিত।

শেয়ার করুন