হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনায় অসাবধানতাবশত ‘স্লিপ অব টাং’-এর কারণে মানুষের কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসান। এই ঘটনা ঘটে, যখন জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হাসান নয়নকে থানা থেকে ছাড়া দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় মাহদী হাসান বলেন, “জুলাই সহযোদ্ধাকে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। তথ্য-প্রমাণ প্রদানের পরও তাকে ছাড়া হয়নি। এ সময় বক্তব্য প্রদানের সময়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল শব্দ চয়ন হওয়ায় বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।”
এর আগে, শুক্রবার ভোররাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে কলিমনগরের নিজ বাড়ি থেকে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরে মাহদী হাসানসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তাকে ছাড়িয়ে দিতে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালামের সঙ্গে মাহদী হাসানের তীব্র তর্ক হয়। এ সময় মাহদী হাসান ওসির কাছে জানতে চান, কেন এনামুল হাসান নয়নকে আটক করা হয়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে প্রশাসন আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই বক্তব্যে তিনি বানিয়াচং থানা পোড়ানোর ঘটনা এবং এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।
পরে, হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শহিদুল হক মুন্সীর মধ্যস্থতায় এনামুল হাসান নয়নকে শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা হয়। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে।





