বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১০ লাখ ভারতীয় নাগরিকের বৈধতা হারানোর সম্ভাবনা কানাডায়

ছবি: সংগৃহীত

কানাডায় বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় নাগরিক আগামী কয়েক মাসে তাদের বৈধ বসবাসের অনুমতি হারানোর সম্ভাবনার মুখোমুখি হয়েছেন। মূলত কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়া, নতুন ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের (পিআর) সুযোগ সংকুচিত হওয়া এবং কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মিসিসাগা ভিত্তিক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ কানওয়ার সিরাহের সংগ্রহ করা কানাডা অভিবাসন দপ্তর (আইআরসিসি) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ১০ লাখ ৫৩ হাজার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে আরও প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ২০২৬ সালের মধ্যভাগে দেশটিতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ অনিয়মিত বা নথিপত্রহীন হয়ে পড়তে পারেন, যার অর্ধেকই ভারতীয় নাগরিক।

কানাডা সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অভিবাসন নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অস্থায়ী কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়মকানুন কঠোর করা হয়েছে, পাশাপাশি রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়াতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ফলে যাদের পারমিট শেষ হচ্ছে, তারা বৈধভাবে দেশের অভ্যন্তরে থাকার বিকল্প পথ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কানওয়ার সিরাহ জানান, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষের পারমিটের মেয়াদ শেষ হবে, যা কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি করবে।

এতে ইতোমধ্যেই সামাজিক প্রভাব দেখা দিয়েছে। বৃহত্তর টরন্টো অঞ্চল, বিশেষ করে ব্র্যাম্পটন ও ক্যালেডনের বনাঞ্চলে অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বসবাস করতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইনি মর্যাদা হারানো অনেক ভারতীয় নাগরিক এখন নগদ মজুরি বা ন্যূনতম পারিশ্রমিকে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি, বৈধ হওয়ার আশায় ভুয়া বিয়ের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন অধিকার রক্ষা সংগঠন সরব হয়েছে। ‘নওজোয়ান সাপোর্ট নেটওয়ার্ক’-সহ কর্মীবান্ধব সংগঠনগুলো জানুয়ারি মাস থেকে বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে। তাদের দাবি, যারা কানাডার অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া উচিত। ‘কাজের জন্য যোগ্য হলে, থাকার জন্যও যোগ্য’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে তারা অভিবাসন নীতি সংস্কারের জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

শেয়ার করুন