মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২০২৫ সালে ইসরাইল ত্যাগ করেছেন ৬৯ হাজারের বেশি নাগরিক

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে ইসরাইলের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশটির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (সিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের বাইরে গেছেন ৬৯ হাজারের বেশি ইসরাইলি নাগরিক।

সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে দেশত্যাগের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে দুই বছর ধরেই ইসরাইলের অভিবাসন ভারসাম্য ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।

টাইমস অব ইসরাইলের বরাতে জানা গেছে, ২০২৫ সালের শেষে ইসরাইলের মোট জনসংখ্যা ১.১ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজারে (১০.১৭৮ মিলিয়ন) পৌঁছেছে। যদিও বৃদ্ধি হার আগের বছরের মতোই ধীর, এটি দেশের ইতিহাসে জনসংখ্যা বৃদ্ধির মধ্যে অন্যতম স্বল্পতম হার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একই সময়ে প্রকাশিত টাউব সেন্টার ফর সোশ্যাল পলিসি স্টাডিজ-এর একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ০.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এটি ইসরাইলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশের নিচে পৌঁছানো হতে পারে।

সিবিএস জানিয়েছে, গত বছর দেশে আগমন করেছেন প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ নতুন অভিবাসী, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৮ হাজার কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া থেকে আগত অভিবাসীর সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়াই এই হ্রাসের প্রধান কারণ। ২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের পর রাশিয়ার নাগরিকদের মধ্যে ইসরাইল অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।

বিভিন্ন বিশ্লেষক মনে করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই অভিবাসন প্রবণতাকে প্রভাবিত করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং সরকারের বিচারব্যবস্থার সংস্কার সংক্রান্ত পরিকল্পনা। সমালোচকেরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা দেশটির গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করছে।

একই সময়ে, প্রায় ১৯ হাজার ইসরাইলি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসেছে, আর পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য আরও ৫ হাজার ৫০০ জন দেশে প্রবেশ করেছেন। ২০২৪ সালে দেশের বাইরে গেছেন ৮২ হাজার ৭০০ ইসরাইলি, যা আগতদের চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার বেশি। জনসংখ্যাবিদদের মতে, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর অধিকাংশ সময় ইহুদির আগমন দেশত্যাগের তুলনায় বেশি হয়েছে, যদিও ১৯৫০ ও ১৯৮০-এর দশকে কিছু ব্যতিক্রম ছিল।

সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ৭৭ লাখ ৭১ হাজার মানুষ ইহুদি ও অন্যান্য, যা মোটের ৭৬.৩ শতাংশ। আরব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২১ লাখ ৪৭ হাজার বা ২১.১ শতাংশ। এছাড়া বিদেশি নাগরিক হিসেবে বসবাস করছে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ, যা মোট জনসংখ্যার ২.৬ শতাংশ।

শেয়ার করুন