শনিবার, ২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও তামাক সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, করলেই জরিমানা ২০০০ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকার ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করেছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে এই সংশোধিত আইন কার্যকর হয়েছে। সংশোধিত অধ্যাদেশে পাবলিক প্লেসে ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে জরিমানার পরিমাণ ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনটির অন্যান্য শাস্তি ও প্রয়োগও শক্তিশালী করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হলো জনগণকে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা, বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন এবং ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব উদীয়মান তামাকজাত পণ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা।

সংরক্ষণ ও সংজ্ঞা সম্প্রসারণ: সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এতে ই-সিগারেট, Electronic Nicotine Delivery System (ENDS), Heated Tobacco Product (HTP), নিকোটিন পাউচসহ সব নতুন ধরনের পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার যেকোনো নতুন পণ্যকে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিনজাত দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা এবং ‘পাবলিক প্লেস’-এর বিস্তৃত সংজ্ঞাও যুক্ত করা হয়েছে।

পাবলিক প্লেসে নিষেধাজ্ঞা: সব পাবলিক স্থানে এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বিধান লঙ্ঘন করলে ৩০০ টাকার পরিবর্তে ২,০০০ টাকা জরিমানা করা হবে।

বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা: প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, OTT প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন, CSR কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান/কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল সংলগ্ন বিক্রয়: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ এবং শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্য: এই ধরনের পণ্য উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। লঙ্ঘনকারীদের সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

বিড়ি নিষিদ্ধকরণ: কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতা দিয়ে তৈরি বিড়ি উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালের পৃথক Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance বাতিল করা হয়েছে।

আসক্তিমূলক দ্রব্য মিশ্রণ নিষিদ্ধ: তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষিত।

স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং: প্যাকেটের ৭৫% জায়গা রঙিন ছবি ও সতর্কবার্তা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ।

শাস্তি ও প্রয়োগ জোরদার: জরিমানা ও কারাদণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল এবং মালামাল জব্দের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধানও সংযোজিত হয়েছে।

শেয়ার করুন