মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সন্ত্রাসী হুমকি বৃদ্ধিতে ২০২৬-এ ভারত–পাকিস্তান সংঘাতের সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স (সিএফআর) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়ে গেলে ২০২৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিশেষজ্ঞদের জরিপভিত্তিক প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান ও সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে জরিপে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘উচ্চমাত্রার সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ ভারত–পাকিস্তান সম্পর্ককে আবারও উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে কঙ্গো, গাজা উপত্যকা ও ইউক্রেনের সংঘাত প্রশমনের চেষ্টা চালিয়েছে এবং ভারত–পাকিস্তান ও কম্বোডিয়া–থাইল্যান্ডের উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিএফআর স্মরণ করিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বল্প সময়ের সামরিক মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে ২৬ বেসামরিক নিহতের সন্ত্রাসী হামলার এক মাস পর তিন দিনের সংঘাত ঘটে। ৬ মে ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনা করে পাকিস্তানের ভিতরে সন্ত্রাসী শিবির লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ভারতের দাবি, ১০০-এর বেশি জঙ্গি ও ৯টি শিবির ধ্বংস হয়।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ৭–১০ মে পাকিস্তান সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে ভারতের সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা চালায়। ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করেছে, প্রতিটি ড্রোন অনুপ্রবেশ প্রতিহত করা হয়েছে, কোনো প্রাণহানি বা ক্ষতি হয়নি। ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব সংঘাত কমানোর পদক্ষেপ নেয়। ১০ মে ভারতের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন ও পাকিস্তানি সমকক্ষের যোগাযোগের পর এলওসি জুড়ে গোলাগুলি ও সামরিক তৎপরতা বন্ধে সমঝোতা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যেও সীমান্ত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অক্টোবরের শুরুতে কাবুলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) প্রধান নুর ওয়ালি মেহসুদকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে।

সিএফআর সতর্ক করে বলেছে, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বাড়লে ২০২৬ সালে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘মাঝারি মাত্রার’ সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

শেয়ার করুন