বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল একটি তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। পোস্টগুলিতে বলা হয়েছিল, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এ ধরনের তথ্যকে সরাসরি অস্বীকার করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক্সে দেওয়া পোস্টে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা লক্ষ্য করেছি কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে আমাদের এসটিএফ প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের গ্রেপ্তার করেছে। এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য জনসাধারণকে অনুরোধ করা হচ্ছে।’’
এর আগে, বাংলাদেশ পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ে প্রবেশ করেছেন। তবে মেঘালয় পুলিশ এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এই দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ হত্যাকারীদের ভারত সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয়ে প্রবেশের তথ্য প্রকাশ করলেও মেঘালয় পুলিশের সদর দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, দুই অভিযুক্তকে রাজ্যের কোথাও শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে মেঘালয় পুলিশের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনও যোগাযোগ হয়নি।
একই দিনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনার দিনই হত্যাকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে।
ডিএমপি কর্মকর্তা আরও জানান, হত্যার পরপরই অভিযুক্তরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চলাফেরা করেছেন এবং পরবর্তীতে হালুয়াঘাট সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয়ে প্রবেশ করেছেন। তার আগে সীমান্তের বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের গ্রহণ ও হস্তান্তরের দায়িত্বে ছিলেন।
তবে মেঘালয় পুলিশের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা এই বিবরণকে ‘অসত্য’ এবং ‘যাচাই-বাছাইহীন’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজ্যের কোথাও অভিযুক্তদের গ্রহণ বা হস্তান্তরের বিষয়টি শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো সমন্বয় বা যাচাই ছাড়াই এই আখ্যান তৈরি করা হয়েছে।





