শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মান্নার নাম ঋণখেলাপি তালিকা থেকে বাতিলের নির্দেশ, অংশগ্রহণে করতে পারবেন নির্বাচনে

সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম ঋণখেলাপির তালিকা থেকে অবিলম্বে মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। এই আদেশের ফলে বগুড়া থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে তার আর কোনো বাধা থাকছে না।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত হাইকোর্টের পূর্ববর্তী আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে মাহমুদুর রহমান মান্না হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন, যাতে তার নাম ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ২৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বেঞ্চ যেখানে বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি মো. মনজুর আলম ছিলেন রিট খারিজ করে তার নাম ঋণখেলাপির তালিকায় রাখার নির্দেশ দেন। এরপর রোববার মান্নার আইনজীবী হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

গত ৩ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা মান্নার নেতৃত্বাধীন আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের কাছে খেলাপি অর্থের বিষয়ে ‘কল ব্যাক নোটিশ’ জারি করে। ব্যাংকের নোটিশে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশটি মান্না ও তার দুই অংশীদারের ঠিকানায় পাঠানো হয়, যেখানে বলা হয় ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্য অনুযায়ী, আফাকু কোল্ড স্টোরেজে মান্নার অংশীদারিত্ব ৫০ শতাংশ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী ২৫ শতাংশ এবং তার স্ত্রী ও পরিচালক ইসমত আরা লাইজু ২৫ শতাংশ। ৩ ডিসেম্বরের নোটিশে বগুড়ার শিবগঞ্জের কিচক বাজারে প্রতিষ্ঠানটির কাছে মোট ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা খেলাপি বিনিয়োগ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ব্যাংকের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত মুনাফা, চার্জ ও জরিমানা পরিশোধ না করায় বকেয়া পরিমাণ বেড়ে বর্তমানে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ব্যাংক চূড়ান্ত সতর্কতার স্বরূপ এই নোটিশ পাঠিয়েছে।

শেয়ার করুন