সম্প্রতি মালয়েশিয়ার একটি বিশাল স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় জনপ্রিয় তামিল অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের নতুন ও শেষ চলচ্চিত্র ‘জানা নায়গান’–এর গান উন্মোচন অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত হাজারো ভক্তের সামনে তিনি এক আবেগঘন ঘোষণার মাধ্যমে জানিয়ে দেন, এ ছবিটিই তার অভিনয় জীবনের শেষ কাজ। সরাসরি ভক্তদের উদ্দেশে দেওয়া এই ঘোষণায় মুহূর্তেই অনুষ্ঠানস্থলে নেমে আসে নীরবতা ও আবেগের ছোঁয়া। দীর্ঘ অভিনয় জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বিজয় ওই মঞ্চেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বছরের পর বছর ধরে প্রশংসার পাশাপাশি কঠোর সমালোচনাও তাকে সহ্য করতে হয়েছে। কখনো নেতিবাচক মন্তব্য, কখনো কটূক্তি সবকিছুর মধ্য দিয়েই তাকে পথ চলতে হয়েছে। তবে এসবের পরেও দর্শক ও ভক্তদের ভালোবাসাই তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিজয় বলেন, ভক্তদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও সমর্থন ছাড়া তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পারতেন না।

ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অভিনেতা আরও বলেন, তারা তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অভিনয় জীবনের ৩৩ বছর তিনি যে ভালোবাসা পেয়েছেন, আগামী জীবনের বাকি সময়টুকু সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতেই তিনি কাজ করতে চান। ভক্তদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার অঙ্গীকার করে বিজয় বলেন, তাদের কাছে তিনি চিরকৃতজ্ঞ এবং এই ঋণ শোধ করাই হবে তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। এদিকে মালয়েশিয়া সফর শেষে রোববার সন্ধ্যায় ভারতে ফেরার সময় চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়েন থালাপতি বিজয়। প্রিয় তারকাকে এক ঝলক দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক ভক্ত বিমানবন্দরে ভিড় জমান। অতিরিক্ত ভিড় ও হুড়োহুড়ির একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান তিনি। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেন। এ ঘটনায় উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, অভিনয় ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন থালাপতি বিজয়। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগম’ (টিভিকে)। দল ঘোষণার প্রায় আট মাস পর, ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি প্রথমবারের মতো জনসমাবেশে অংশ নেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার দল তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
চেন্নাইয়ে জন্ম নেওয়া যোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখরকে ভক্তরা ভালোবেসে ‘থালাপতি’ অর্থাৎ সেনাপতি নামে ডাকেন। একের পর এক সফল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি কোটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। বিপুল জনপ্রিয়তা, উচ্চ পারিশ্রমিক এবং ঝলমলে চলচ্চিত্র জীবনকে পেছনে রেখে সমাজ ও রাজনীতির পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত তার ক্যারিয়ারে এক নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।





