বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গোড়ালি ফাটা থেকে রক্ষা পেতে ঘরে বানান কার্যকর ফুট মাস্ক

শীত মৌসুমে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে পায়ের পাতায় ও গোড়ালিতে। অনেকের ক্ষেত্রেই এই সময়ে পা অতিরিক্ত রুক্ষ হয়ে ফেটে যায়, যা হাঁটাচলায় তীব্র অস্বস্তির কারণ হয়। শুধু বাজারচলতি ক্রিম বা তেল ব্যবহার করেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ের ত্বক নরম ও সুস্থ রাখতে হলে নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি কার্যকর ফুট মাস্ক ও ফুট ক্রিম ব্যবহার জরুরি, যা ঘরেই সহজ উপকরণ দিয়ে তৈরি করা সম্ভব।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পা ফাটার সমস্যা অনেকের ক্ষেত্রেই প্রকট আকার ধারণ করে। ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে ত্বকে টান ধরে এবং গোড়ালিতে গভীর ফাটল সৃষ্টি হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই ফাটল থেকে রক্তপাতও হতে পারে, যা মোটেও স্বাভাবিক নয়। এ ধরনের লক্ষণ ত্বকের ভেতরে অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, যা শীতকালে আরও বেড়ে যায়। যদি দেখা যায় শীত ছাড়াও বছরের অন্য সময় পা ফাটছে, তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে নিয়মিত ও বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি।

পায়ের রুক্ষতা কমাতে একটি কার্যকর প্রাকৃতিক ফুট মাস্ক তৈরি করা যেতে পারে পাকা কলা, মধু ও লেবুর রস দিয়ে। একটি কলা ভালোভাবে চটকে নিয়ে তার সঙ্গে এক চামচ মধু ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট বানাতে হবে। ব্যবহারের আগে পা ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে মাস্কটি লাগিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। কলায় থাকা পটাশিয়াম ও মধুর প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ত্বকের শুষ্কতা দূর করে এবং পায়ের পাতার কালচে ভাবও হালকা করতে সহায়তা করে।

গোড়ালির গভীর ফাটল সারাতে বিশেষ ধরনের একটি ঘরে তৈরি সিরাম বেশ কার্যকর। এর জন্য প্রয়োজন সামান্য সাদা মোম, দুই থেকে তিন চামচ সর্ষের তেল বা নারকেল তেল এবং এক চামচ অ্যালো ভেরা জেল। প্রথমে তেল গরম করে তাতে মোম দিয়ে কম আঁচে গলাতে হবে। মিশ্রণটি নামিয়ে সামান্য ঠান্ডা হলে অ্যালো ভেরা জেল যোগ করে ভালোভাবে নেড়ে নিতে হবে। ক্রিমের মতো ঘন হলে রাতে ঘুমানোর আগে ফাটা জায়গায় মালিশ করে সুতির মোজা পরে শুয়ে পড়তে হবে। এতে ত্বকের ক্ষতস্থান ধীরে ধীরে মেরামত হয় এবং আর্দ্রতা দীর্ঘসময় ধরে থাকে।

পায়ের ত্বক পরিষ্কার না রাখলে সেখানে মৃত কোষ জমে চামড়া শক্ত ও কালচে হয়ে যায়, বিশেষ করে গোড়ালির অংশে। এ সমস্যা দূর করতে নিয়মিত স্ক্রাব করা অত্যন্ত প্রয়োজন। বাজারের স্ক্রাবের পরিবর্তে ঘরে তৈরি স্ক্রাব ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। দুই চামচ চালের গুঁড়োর সঙ্গে এক চামচ নারকেল তেল ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। পা ১০ মিনিট গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে এই পেস্ট দিয়ে আলতো করে ঘষে পাঁচ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে খসখসে ভাব কমে আসে।

যাদের পা অত্যন্ত শুষ্ক ও ফাটার প্রবণতা বেশি, তারা ঘরে তৈরি একটি ঘন ফুট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন দুই চামচ শিয়া বাটার (না পেলে ভ্যাসলিন), দুই থেকে তিনটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল, এক চামচ মধু ও এক চামচ গ্লিসারিন। শিয়া বাটার গলিয়ে তাতে ভিটামিন ই, মধু ও গ্লিসারিন মিশিয়ে একটি মসৃণ ক্রিম তৈরি করতে হবে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে এটি ভালোভাবে লাগিয়ে রাখলে কয়েক দিনের মধ্যেই ত্বক নরম ও মসৃণ হয়ে উঠবে।

শেয়ার করুন