মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশি পর্যটকের অভাবে, সংকটে কলকাতার নিউমার্কেট ব্যবসায়ীরা

কলকাতায় শীতের কড়াকড়ি তীব্র হয়ে উঠেছে। বড়দিন শেষ হয়েছে, আর কয়েক দিনের মধ্যে নতুন বছরের আগমন। প্রতি বছর এই সময়ে নিউমার্কেট চত্বর বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত থাকে। তবে এবারের পরিস্থিতি আগের বছরের তুলনায় ভিন্ন। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর থেকে ধীরে ধীরে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। চলতি বছরও কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।

বর্তমানে ভারত সরকার বাংলাদেশের ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিউমার্কেট চত্বরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের ছায়া পড়েছে।

নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা মূলত বাংলাদেশি পর্যটক ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা ভ্রমণকারীর ওপর নির্ভর করে ব্যবসা চালাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, যদি সম্পূর্ণভাবে ভিসা বন্ধ থাকে, তাহলে চত্বরের হোটেল, রেস্তোরাঁ, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, পরিবহন এবং বড় দোকানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ফল বিক্রেতা মোহাম্মদ নাসিম আলী বলেন, “মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমন বেড়েছিল, কিন্তু হঠাৎ আবার কমে গেছে। সকাল থেকে বসে থাকলেও বিক্রি নেই। যদি ফের ভিসা বন্ধ করা হয়, আমরা কীভাবে পরিচালনা করব তা জানি না।”

কটন গ্যালারির কর্ণধার কামরুদ্দিন মল্লিক জানান, “এক বছর ধরে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসা ভিসায় কিছু পর্যটক আসছে। বড়দিনে কিছু সংখ্যক পর্যটক ছিলেন, তবে আগের তুলনায় কম। আমাদের এখানে এখন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যটক আছে, বাকি ৭০ শতাংশ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশি পর্যটক না থাকার কারণে হোটেলগুলোতে অনেক রুম ফাঁকা রয়েছে এবং ভাড়াও কম। ফলে বিহার, উড়িষ্যা থেকে পর্যটক আসছে, তবে বাংলাদেশিদের মতো নয়। আগে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ ভিসা দেওয়া হতো, এখন ১,২০০।”

কামরুদ্দিন মল্লিক বলেন, “আমাদের বাংলাদেশি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং ভারতীয় পর্যটকের ওপর নির্ভর করতে হবে। তা না হলে ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে। দোকানের ভাড়া, ইলেকট্রিক বিল এবং কর্মচারীর বেতন দেওয়ার জন্য বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভর করতে হয়। অনেক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, ট্রাভেলস, হোটেল সবকিছুই সমস্যার মুখে।”

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী রাকেশ আগরওয়াল জানান, “জুন মাস পর্যন্ত ভিসা আছে। যতটুকু ভিসা দেওয়া হবে, পর্যটক আসবে। সরকার যদি ভিসা পুনরায় চালু করে, সমস্যা নেই। তবে হোটেল, মুদ্রা বিনিময় এবং ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস ব্যবসা ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি পর্যটকরা ঠিকভাবে না আসেন, আরও সমস্যা হতে পারে। শিলিগুড়িতে কিছু হোটেল বয়কট করেছে, কিন্তু আমাদের নিউমার্কেটে এমন পরিস্থিতি নেই। তবে বেশ কয়েকটি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র ও হোটেল ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক ব্যবসায়ীও এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যভাবে মন্তব্য করতে চাইছেন না।”

শেয়ার করুন