সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর, মাত্র দু’দিন বাকি

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন আগামী সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর। প্রার্থীদের হাতে সময় কেবলমাত্র দু’দিন বাকি। মনোনয়নপত্র যাচাই ও বাছাইয়ের দায়িত্ব রিটার্নিং অফিসারের। তাই, সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া সকল ফরম ২৯ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার পর নিরাপদভাবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রেরণ করতে হবে।

সেই দিন অথবা তার আগের যে কোনো সময় প্রার্থী, প্রস্তাবক বা সমর্থক মনোনয়নপত্র জমা দিলে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৭২ এর ১২(৩) অনুচ্ছেদের অধীনে রিটার্নিং অফিসার বা তার সহকারী তা গ্রহণ করবেন।

মনোনয়নপত্র গ্রহণের সময় অফিসাররা নির্দিষ্ট স্থানে ক্রমিক নম্বর প্রদান করবেন। রিটার্নিং অফিসার ‘রিঅ-’ এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার ‘সরিঅ-’ লিখে নম্বর দেবেন। একই প্রার্থী একাধিক ফরম জমা দিলে প্রথম ফরমকে পূর্ণ নম্বর এবং অন্যান্য ফরমের ক্ষেত্রে বন্ধনী (ক), (খ) বা (১), (২) ব্যবহার করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমাদান, জামানত, প্রস্তাবক ও সমর্থকের যোগ্যতা, রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন, ফরম যাচাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ সংক্রান্ত বিস্তারিত একটি পরিপত্র জারি করেছে। ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এই পরিপত্র শনিবার প্রকাশিত হয়।

প্রার্থীতার আগ্রহ প্রকাশ করতে রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, আইনজীবীসহ সকল পেশার মানুষ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রে ব্যক্তিগত তথ্য যেমন নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, বৈবাহিক অবস্থা, ভোটার আইডি, ভোটার তালিকায় ক্রমিক নম্বর, এলাকার নাম, উপজেলা ও জেলা উল্লেখ করতে হবে। এছাড়াও প্রার্থীকে নিম্নলিখিত তথ্য সরবরাহ করতে হবে:

প্রার্থীর পক্ষে প্রস্তাবক ও সমর্থকের নাম, ভোটার নম্বর এবং স্বাক্ষর।

প্রার্থীকে হলফনামা জমা দিতে হবে। এতে তার ও পরিবারের আয়ের উৎস, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দেনা-পাওনা, পূর্ব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও অর্জিত ফলাফল, ঋণসংক্রান্ত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সম্পর্কিত নথি এবং বর্তমান বা পূর্বে কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে তার বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে।

নির্বাচনী ব্যয় এবং অর্থের উৎসের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম্বার ও ব্যাংকের তথ্য, আয়করের তথ্য, সম্পদ-দায়ের বিবরণ, বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সর্বশেষ রিটার্নের অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে। প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকে পৃথক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং ফরমে সেই অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করতে হবে। সমস্ত নির্বাচনী ব্যয় ঐ অ্যাকাউন্ট থেকে করা বাধ্যতামূলক।

প্রার্থী যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পেয়েছেন তার কপি জমা দিতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করতে হবে, যেমন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনো সম্পর্ক বা সরকারি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের তথ্য।

জামানতের প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, ট্রেজারি চালান বা রশিদের অনুলিপি জমা দিতে হবে।

পূর্বে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন কিনা এবং হয়েছেন কি না তার বিস্তারিত তথ্য। নির্বাচিত হলে কোন সংসদে, কোন নির্বাচনী এলাকা থেকে এবং কততম নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন তা উল্লেখ করতে হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নতুন প্রার্থীর ক্ষেত্রে নির্বাচনী এলাকার নাম ও নম্বর এবং ওই এলাকার এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত সমর্থন তালিকা সংযুক্ত করতে হবে।

রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর জন্য দলের প্যাডে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা সমতুল্য পদধারীর স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র জমা আবশ্যক। একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন পেলে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ২০ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী দলের প্রতীক পাবেন, যদি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করেন। প্রতীক বরাদ্দ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরে আলাদা পরিপত্রে প্রকাশ করা হবে।

মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় ৫০,০০০ টাকা জামানত প্রদান বাধ্যতামূলক। এটি নগদ, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে করা যাবে। একই নির্বাচনী এলাকায় একাধিক ফরম জমা দিলে একবারের জামানত যথেষ্ট, অন্যান্য ফরমের সঙ্গে চালানের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে। জামানতের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক, যে কোনো ব্যাংক বা সরকারি ট্রেজারি/সাব ট্রেজারিতে নির্দিষ্ট কোড নম্বরে জমা দিতে হবে। নগদ জামানত রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার সরকারি কোষাগারে জমা দেবেন।

শেয়ার করুন