বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইয়েমেনের হাদরামাউতে সৌদির বিমান হামলা

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাদরামাউতে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এই হামলার দায় সৌদি আরবের ওপর চাপিয়েছে। শুক্রবার ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার এক দিন আগে সৌদি আরব ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তাদের সাম্প্রতিক দখলকৃত এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানায়। এর পরদিনই ওই অঞ্চলে বিমান হামলা চালানো হয়। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধান সমর্থক দেশ হলো সৌদি আরব।

হতাহতের বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। তবে শান্তিপূর্ণ সময় কাটানোর পর ইয়েমেনে এই হামলার কারণে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে চলা এই সংঘাতে ইরান, সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলো জড়িত রয়েছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অগ্রগতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ইয়েমেনের সরকার বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত, যার মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদীরাও রয়েছে। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরোধিতা এই সরকারের ঐক্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সংবাদমাধ্যম অ্যাডেন ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, হাদরামাউতের ওয়াদি নাহবে হাদরামি এলিট ফোর্সেসের অবস্থানে সৌদি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি আমিরাত সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) জানিয়েছে, ওই এলাকায় দুটি বিমান হামলা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের পর ওই অঞ্চলে বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়। হাদরামাউতের এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর স্থানীয় উপজাতীয় নেতা এলাকা ত্যাগ করেছেন।

চলতি মাসের শুরুতে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হাদরামাউত ও মাহরা প্রদেশ দখল করে। এর পর সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ওই এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, এসটিসির অগ্রগতি আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বিভাজনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পুরো যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা থেকে সরকার উৎখাতের পর থেকে ইয়েমেন বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। সংঘাতে লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে ২০২২ সালের পর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় সংঘর্ষ কিছুটা কমেছে।

শেয়ার করুন