সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানসহ আসামিরা ট্রাইব্যুনালে হাজির

রাজধানীর রামপুরায় জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ২৮ জন হত্যার ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে অন্যতম আসামি হলেন বিজিবির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

বিচার শুরুতেই আসামিদের অব্যাহারের জন্য আইনজীবীদের করা আবেদন ট্রাইব্যুনাল খারিজ করে দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান এবং সহিদুল ইসলাম। অপরদিকে রেদোয়ান ও অন্য গ্রেফতার আসামির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ এবং স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

এ মামলায় রেদোয়ানুল ইসলাম ছাড়া গ্রেফতার থাকা অপর আসামি হলেন বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। এদিন সকালে তারা ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। মামলার অন্য দুই পলাতক আসামি হলেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বিশেষ কারণে তা স্থগিত হয়েছিল। ৬ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ফরমাল চার্জের ওপর শুনানি শেষ করেন। ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ান ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং তারা কারাগারে পাঠানো হয়। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

জুলাই-আগস্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। রামপুরায় এই হত্যাকাণ্ডে ২৮ জন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রামপুরায় আন্দোলনকারীদের উপর সরাসরি গুলি ছুড়ার ঘটনায় রেদোয়ানুলকে দেখা গেছে। অন্যান্য আসামিরাও এই হত্যাযজ্ঞে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে চারজনের বিরুদ্ধে পৃথক ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে।

শেয়ার করুন