শনিবার, ২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আসছেন তারেক রহমান, প্রস্তুত বিএনপি

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়ার পর টানা ১৭ বছরের বেশি সময় প্রবাসে অবস্থান শেষে আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজধানীতে নজিরবিহীন সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

বিএনপির প্রত্যাশা, এই উপলক্ষে ঢাকায় প্রায় ৫০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। দলীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার থেকেই ৬৩ জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা রাজধানীতে আসতে শুরু করেছেন। বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে দুপুর ১২টায় তারেক রহমানের হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি কুড়িল বিশ্বরোডসংলগ্ন তিনশ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে অবস্থান করবেন তারেক রহমান। ওই বাসার পাশের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় থাকেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানেরও একই দিনে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দেন জাইমা রহমান। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বহু বছর পর দেশে ফেরা তার কাছে আবেগ ও অনুভূতির এক বিশেষ উপলক্ষ এবং দেশে ফিরে তিনি তার ‘দাদু’র পাশে থাকতে চান।

বিশেষ নিরাপত্তা ও কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ছাড়া দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিমানবন্দর ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কা থাকায় যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে রওনা হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দি থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান তারেক রহমান। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যান।

তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানাতে রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় বিশাল মঞ্চ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচলমুখী ৩০০ ফিট সড়কের একটি অংশজুড়ে এই মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে মঞ্চের প্রস্তুতি পরিদর্শনে যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে গঠিত অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, ১৭ বছর পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা উপলক্ষে মানুষের বিশাল মিলনমেলা ঘটবে এবং অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতির আশা করছেন তারা।

তিনি আরও বলেন, দেশে পৌঁছানোর পর তারেক রহমান প্রথমে সংবর্ধনায় অংশ নেবেন, এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী জানান, অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও বিএনপি উভয় পক্ষ থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন।

নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনসমাগম বড় হলেও সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে হবে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শৃঙ্খলার সঙ্গে প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানাতে হবে এবং কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না।

এদিকে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে নগরী। ‘লিডার আসছে’, ‘হে বিজয়ী বীর, তোমাকে স্বাগত’—এমন স্লোগানে ভরে উঠেছে পল্টন, মৎস্যভবন, কাকরাইল, মোহাম্মদপুর, কাওরান বাজার, মহাখালী, গুলশান, উত্তরা, বনানী ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকা। এসব ব্যানার-বিলবোর্ডে বড় আকারে স্থান পেয়েছে তারেক রহমানের ছবি।

তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার রাজধানীতে স্বাগত মিছিল বের করে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (পিজি হাসপাতাল) বটতলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় ঘুরে মৎস্যভবনে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

শেয়ার করুন