বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশন গুলোতে পর্যায়ক্রমে হামলা চালানোর চেষ্টা বিক্ষোভকারীদের

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভকারীদের একটি দল নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

একই দিন দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনেও অনুরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা সেখানে ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু দেশটির বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে কয়েকশ মানুষ উপহাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে কঠোর অবস্থান নিতে হয়।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একদল বিক্ষোভকারী গেরুয়া রঙের পতাকা হাতে উত্তেজিত অবস্থায় নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করছে। এর আগের দিন সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলাদেশবিরোধী একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বড় আকারের বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা একের পর এক নিরাপত্তা ব্যারিকেড অতিক্রম করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর ফলে আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ এবং ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবকের মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙতে চাইলে নিরাপত্তা বাহিনী তা প্রতিহত করে।

হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের কর্মসূচিকে ঘিরে হাইকমিশনের সামনে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যারিকেড বসানো হয়। সেখানে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কথিত নির্যাতন ও উপাসনালয় ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভকারীরা অন্তত দুটি ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে ব্যারিকেড পুনরায় স্থাপন করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এর আগেও গত ২০ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গেটের সামনে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।

এদিকে এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও ভারতে নিযুক্ত হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের দপ্তরে উপস্থিত হন এবং অল্প সময় পর সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

উল্লেখ্য, এর আগেও ১৪ ডিসেম্বর প্রণয় ভার্মাকে তলব করা হয়েছিল। সে সময় ভারতের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয় এবং কিছু হামলাকারীর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দিল্লি, কলকাতা ও ভারতের অন্যান্য শহরে বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের হাইকমিশনারকে ডেকে এ বিষয়ে অবস্থান জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন