ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় দিল্লির আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ করা উচিত।
খাড়গে বলেন, ‘এই আদালতের সিদ্ধান্ত নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর মুখে বড় ধরনের চপেটাঘাত। ভবিষ্যতে মানুষকে হয়রানি করা হবে না—এই বার্তা দিতেই তাদের পদত্যাগপত্র দেওয়া প্রয়োজন।’
মঙ্গলবার দিল্লির একটি আদালত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ওই চার্জশিটে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
খাড়গের অভিযোগ, গান্ধী পরিবারকে হয়রানি করতেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা করা হয়েছে। তার মতে, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেন, ‘এই মামলা পুরোপুরি ভুয়া। রাজনৈতিক বদলা ও কু-উদ্দেশ্য নিয়ে এটিকে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে ইডিকে ব্যবহার করছে।
তবে আদালতের সিদ্ধান্তে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন খাড়গে। তিনি বলেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে। আমরা এই রায়কে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।’
আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে জানায়, আইনের দৃষ্টিতে এই চার্জশিটের ওপর বিচারিক স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব নয়। আদালত আরও উল্লেখ করে, মামলাটিতে ইডির পদক্ষেপে সিবিআইয়ের ভূমিকা এবং পিএমএলএ আইনের কাঠামো অযথা অতিক্রম করার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারক বিষাল গোগনে জানান, এফআইআর ছাড়া ব্যক্তিগত অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থ পাচারের মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা আইনসম্মত নয়।
উল্লেখ্য, জওহরলাল নেহরু প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকা নিয়ে ২০১৩ সালে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে বিজেপি। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
অভিযোগ রয়েছে, অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড নামে যে সংস্থার হাতে পত্রিকাটির মালিকানা ছিল, তাদের বাজারে মোট দেনার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০ কোটি টাকা, যার বড় অংশই কংগ্রেসের কাছ থেকে নেওয়া।





