রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

আসুন তওবা করে আমরা আল্লাহমুখী হই

আসুন তওবা করে আমরা আল্লাহমুখী হই

ভূমিকম্প মানবজাতির জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। যখন জমিন আল্লাহর আদেশে কেঁপে ওঠে, তখন মানুষ উপলব্ধি করে তার সব শক্তি, প্রযুক্তি ও পরিকল্পনা এক মুহূর্তেই ভেঙে পড়তে পারে।

ইতিহাস বলে, আল্লাহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাধ্যমে কখনো কখনো বান্দাদেরকে সতর্ক করেন, পথ দেখান এবং পাপ থেকে ফিরে আসার সুযোগ দেন। তাই ভূমিকম্প শুধু একটি বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, এটি মানুষের জন্য আত্মসমালোচনার মুহূর্ত।

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, হে মানুষ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো। নিশ্চয়ই কিয়ামতের ভূমিকম্প এক ভীতিকর বিষয়। (সুরা আল-হাজ্জ) আবার বলেন, যখন জমিন প্রবল কম্পনে কাঁপবে। (সুরা যিলযাল)

এসব আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জমিনের উপর আমরা গর্ব করি, ঘর-বাড়ি-সম্পদ দিয়ে সাজাই, সেই জমিনই একদিন আল্লাহর আদেশে কেঁপে উঠবে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন মানুষ আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়, তখন ভূমিকম্প, ধ্বস ও রূপ পরিবর্তনের শাস্তি নেমে আসে। (তিরমিজি)

আরেকটি হাদিসে এসেছে, যখন জমিনে পাপ বাড়বে, তখন ভূমিকম্পও বাড়বে। (মুসনাদে আহমদ) এ কথাগুলো আমাদের চোখ খুলে দেয়—দুনিয়ার অস্থিরতা কেবল প্রাকৃতিক নয়, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ফিরে আসার আহ্বানও হতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে দুর্যোগ সবসময় শাস্তি নয়। এটি হতে পারে পরীক্ষা, হতে পারে সতর্কবার্তা, হতে পারে মানুষের অহংকার ও গাফেলতি ভেঙে দেওয়ার মাধ্যম।

আল্লাহ বলেন, আমি তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ-প্রাণ-ফসলের ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। (সুরা বাকারা) তাই ভূমিকম্প আমাদের জন্য আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ, আমরা কি আল্লাহর পথে আছি, নাকি গাফলতির অন্ধকারে হারিয়ে গেছি?

এ সময় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—গুনাহ ত্যাগ করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। মিথ্যা, প্রতারণা, সুদ, অশ্লীলতা, অন্যায়, পরনিন্দা—এসব থেকে দূরে থাকা।

নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, তওবা করা, ইস্তিগফার করা, সদকা-খয়রাত বাড়ানো, মানুষের প্রতি ন্যায়পরায়ণ ও দয়ালু হওয়া। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি—যে ব্যক্তি তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে—আল্লাহ তার গুনাহগুলো ক্ষমা করবেন। (সুরা ফেরকান)

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তওবায় লেগে থাকো, আমি প্রতিদিন একশ’ বার তওবা করি। (মুসলিম) নবী নিজে যখন এত তওবা করতেন, তখন আমাদের কেন গুনাহে ডুবে থাকা?

ভূমিকম্প আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেয় দুনিয়া স্থায়ী নয়, শক্তি স্থায়ী নয়, সম্পদ স্থায়ী নয়। স্থায়ী একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি। তাই আসুন এই ধরনের দুর্যোগকে শুধুই খবর হিসেবে না দেখে নিজের জীবনের পরিবর্তনের কারণ হিসেবে দেখি।

আমরা যারা শেষ নবী হযরত মোহাম্মদের (সা.) উম্মত, আল্লাহ তায়ালা গুনাহের কারণে আমাদের সমূলে ধ্বংস করবেন না ঠিক, তবে বিভিন্ন বিপর্যয়ের সম্মুখীন করবেন এবং সেটা করবেন আমাদের অবাধ্যতার কারণেই। যেন আমরা তওবা করে সৎপথে ফিরে আসি।

আসুন গুনাহের কাজ ছেড়ে দিই, অবাধ্যতার পথ থেকে ফিরে আসি, আল্লাহমুখী হয়ে নতুন জীবন শুরু করি। একটি ঈমানদার, আল্লাহভীরু, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।

শেয়ার করুন